অর্থনীতি ও বাণিজ্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৪ ডিসেম্বর

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট:  বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৪ ডিসেম্বর আদালতে দাখিলের কথা রয়েছে। তবে ইতোমধ্যেই ২৫ বার পিছিয়েছে এই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ। এ সময়ের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার কথা ছিল সিআইডির (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ)।

তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার দুপুরে সিআইডির ডিআইজি শাহ আলম বলেন, ‘আমাকে একটু পরিক্ষা করে বলতে হবে। আমি তো একচুয়েলি নতুন ঢুকেছি।’

পরে এ ব্যাপারে সিআইডির অন্য কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।

জানা গেছে, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪ ধারাসহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তভার গিয়ে পরে সিআইডির ওপর।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হয়। ওই অর্থের মধ্যে দুই কোটি ডলার যায় শ্রীলঙ্কায়। বাদবাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার যায় ফিলিপাইনে। শ্রীলঙ্কায় যাওয়া অর্থ হ্যাকাররা ছাড় করতে পারে নি বলে সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবেই রয়ে যায়। ওইদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ বিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা করেছিল হ্যাকাররা। এর মধ্যে হ্যাকারদের ৩৫টি আবেদনের মধ্যে নানা কারণে ৩০টি বাতিল করার দাবি করে আসছে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। ওই ৩০টি আবেদনের মাধ্যমে ৮৭ কোটি ডলার চুরি করতে চেয়েছিল হ্যাকাররা।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক (ইডি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থ উদ্ধারে কাজ চলছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও সিআইডির কর্মকর্তারাও সাক্ষ্য দিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থের মধ্যে ফিলরেম মানি রেমিটেন্স কোম্পানির কাছে রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ওই অর্থ নিয়ে ফিলিপাইনের এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের একটি বাজেয়াপ্তকরণ মামলা দেশটির আদালতে চলমান। অপরদিকে সোলায়ার নামের এক ক্যাসিনোতে গিয়েছিল ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আদালত ফ্রিজ করে রেখেছে। এ বিষয়েও অপর একটি মামলা বিচারাধীন। আর কিম অংয়ের ক্যাসিনোতে যাওয়া ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে দেড় কোটি ডলার ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। সবমিলে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের এখনও হদিস মেলেনি। আর হদিস মেলা অর্থও কবে ফেরত আসবে তা নিয়েও যেন শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রিজার্ভের অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে আরও উদ্যোগী হওয়া যেতে পারে।

জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার এক হ্যাকারের জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেয়। ওই ঘটনায় বাংলাদেশ চুরি যাওয়া টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছে।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension