
বিকৃত ইতিহাস ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিদেশি নেতাদের বিভ্রান্ত করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান ও তার শাসনামলকে হোয়াইটওয়াশ করে বিদেশিদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন দলটির নেতারা।
এদিকে দলটির এ অপচেষ্টায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট গবেষক ও জিয়াউর রহমানের শাসনামলে স্বজন হারানো অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনের বলা হয়েছে, খ্যাতনামা লেখক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস বাংলাদেশের প্রথম সামরিক স্বৈরশাসক জিয়ার শাসনামলকে ‘রক্তপাতের যুগ’র সূচনা হিসাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাকে ‘গণতন্ত্রের অভিভাবক’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টায় মরিয়া।
বিএনপি স্পষ্টতই দলীয় প্রধান জেনারেল জিয়া সম্পর্কে বিকৃত বয়ান তুলে ধরে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর কাছে নিজেদের বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করছে। দলটির নেতাদের এমন বিতর্কিত তৎপরতা সম্প্রতি জনসমক্ষে বেরিয়ে এসেছে।
যেমন- ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি জাপানের সাবেক ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের কাছে বিএনপির নেতাদের লেখা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় বিএনপি। যিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেন।’
শুধু তাই নয়, ওই চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘বিএনপি বাংলাদেশে বহুদলীয় বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেছে।’
বিএনপি যে মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্ব নেতাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে দলটির এসব দাবি তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
শুধু জাপান নয়, পশ্চিমা দেশগুলোর সামনেও জেনারেল জিয়ার নেতৃত্বাধীন শাসনামলকে হোয়াইটওয়াশ করে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা লক্ষ করা গেছে। দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশিষ্ট গবেষক ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
বিশিষ্ট গবেষক অজয় দাস গুপ্ত বলেন, ‘জেনারেল জিয়া দেশের প্রথম সামরিক স্বৈরশাসক ছিলেন এবং বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অসংখ্য সেনা ও অফিসারকে তিনি ফাঁসি দিয়ে দমন-পীড়নের ইতিহাস গড়েছেন। এরপরও কিছু মানুষ এখনও তাকে স্বাধীনতা, মুক্তি, সুশাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আলোকবর্তিকা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।’
বাবা জেনারেল জিয়ার মতোই ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও একই পথ অনুসরণ করছেন। এতেই প্রমাণ হয় যে, দলটি আজও সাম্প্রদায়িক ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
২০১৪ সালে তারেক তার বাবাকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেছিলেন।
গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, গত মার্চেও তিনি দাবি করেন যে, জেনারেল জিয়াই দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি।


