
ভুয়া গ্রিনকার্ডে কর্মী নিয়োগ, সুপারমার্কেট ম্যানেজার দোষী সাব্যস্ত
অভিবাসন নথি জালিয়াতি ও শ্রম দপ্তরের দুই তদন্তে বাধা; সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে
শাহ্ জে. চৌধুরী :
ভুয়া গ্রিনকার্ড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড ব্যবহার করে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের নিয়োগ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের দুটি তদন্তে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সুপারমার্কেট চেইনের জেনারেল ম্যানেজার কার্লা মন্টোয়া (৪৫) দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) এ মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি অফিসের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়া এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
আদালতের নথি ও বিচার চলাকালে উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, স্যাক্রামেন্টো এলাকার Viva Supermarkets-এর জেনারেল ম্যানেজার মন্টোয়া প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সাবেক স্যাক্রামেন্টো সিটি কাউন্সিল সদস্য শাহরিয়ার ‘শন’ লোলির সঙ্গে মিলে চেইনটির বিভিন্ন শাখায় অনিবন্ধিত অভিবাসীদের নিয়োগে সহায়তা করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বহু কর্মীর ভুয়া গ্রিনকার্ড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড গ্রহণ করেন তিনি। এমনকি নিজের অভিবাসনসংক্রান্ত নথিও জাল ছিল বলে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।
মামলার তথ্যে আরও উঠে এসেছে, কর্মীদের বেতন প্রদানে হিসাববহির্ভূত পদ্ধতি অনুসরণ এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার পারিশ্রমিক না দেওয়ার মতো অনিয়মের সঙ্গে মন্টোয়া জড়িত ছিলেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের Wage and Hour Division-এর দুটি তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে নেতিবাচক তথ্য দিতে পারেন—এমন কর্মীদের আড়াল করা এবং তদন্ত চলাকালে কর্মকর্তাদের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন মন্টোয়া ও লোলি। এর ফলে প্রথম তদন্তে শ্রমিকদের প্রকৃত বকেয়া মজুরির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম উঠে আসে।
এ মামলায় সুপারমার্কেটটির মালিক শাহরিয়ার ‘শন’ লোলি গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তদন্তে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্র, আইআরএসকে প্রতারণার ষড়যন্ত্র, মিথ্যা কর রিটার্ন দাখিল, ওয়্যার ফ্রড ও অর্থ পাচারসহ একাধিক অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। একই মামলার সহ-আসামি মিরওয়াইস শামস ও আহমাদ শামস গত ১৮ আগস্ট মিথ্যা কর রিটার্ন দাখিলের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তাঁদের সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ নভেম্বর ২০২৬।
অন্যদিকে, কার্লা মন্টোয়ার সাজা ঘোষণা করবেন ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক ট্রয় এল. নানলি। আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে তাঁর সাজা ঘোষণার কথা রয়েছে।
মামলার বিভিন্ন অভিযোগে মন্টোয়ার সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন আদালত। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও ফেডারেল সাজা নির্দেশিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
অভিবাসন নথির জালিয়াতি, শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন এবং সরকারি তদন্তে বাধা—এই তিন অভিযোগে মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও শ্রম আইন প্রয়োগের বিষয়টি আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।



