
রক্তাক্ত শ্রীলঙ্কা: ‘আমরা ভাবিনি যে এই লোকটা আমাদের মারতে এসেছে’
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লোকটা খাওয়ার টেবিলের পাশে ঘোরাঘুরি করছিল৷ ভাবতেই পারিনি ওই আমাদের মারতে এসেছিল৷ হামলার আগের দিন হোটেলে চেক ইন করেছিল৷ কোনওরকমে বিস্ফোরণে বেঁচে যাওয়া হোটেলের ম্যানেজার শুনিয়েছেন সেই ভয়াবহ মুহূর্ত৷
শ্রীলঙ্কার সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলের ম্যানেজার রোহান কর বিবিসি-কে জানিয়েছেন তাঁর চোখের সামনে হয়েছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ৷ ইসলামিক স্টেট অনুপ্রাণিত স্থানীয় ইসলামিক সংগঠন এনটিজে এই নাশকতা ঘটায় গত রবিবার৷ ইস্টার সানডে প্রার্থনা চলছিল সেদিন৷ পরপর ৮টি বিস্ফোরণে রক্তাক্ত হয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র৷ নিহতের সংখ্যা আড়াইশোর বেশি৷ আহত ৫০০ জন৷
হোটেল ম্যানেজার রোহান জানিয়েছেন, লোকটা যখন হোটেল এসেছিল, তখন তাকে এক গ্লাস পানীয় দিয়েও স্বাগত জানানো হয়৷ সেটা পান করে সে তার রুমে চলে গিয়েছিল৷ হামলার দিন সকালে সে নিচে নেমে আসে। তার পিঠে একটা ব্যাগ ছিল। তারপর সে হোটেলের রেস্টুরেন্টে চলে যায় যেখানে লোকজন সকালের খাওয়া খাচ্ছিলেন।
একেবারে মাঝখানের একটি টেবিলের কাছে চলে গেল লোকটা৷ তার পিঠে ছিল রুকস্যাক। সে টেবিলে বসলো, খাওয়াদাওয়া করল। লোকজন বুফে-তে আসার জন্যে সে অপেক্ষা করছিল। যখন সে দেখলো রেস্তোরাঁ ভরে গেছে তখনই বিস্ফোরণ ঘটায়৷ আমরা কখনও ভাবিনি এই সেই লোক যে আমাদেরকে মারতে এসেছে। আর কিছু ভাবতে পারেনি ম্যানেজার৷ চোখের সামনে দেখেছেন রক্তাক্ত ছিন্নভিন্ন দেহ৷ কোনরকমে বেঁচে গিয়েছেন তিনি৷
শ্রীলঙ্কায় ইস্টার সানডেতে আত্মঘাতী হামলাকারীরা কিভাবে বেশ কয়েকটি হোটেল ও গির্জাতে হামলা চালিয়েছিল তার বিস্তারিত বিবরণ ধীরে ধীরে বের হয়ে আসছে। আটটি জায়গায় প্রায় একই সময়ে চালানো হয়৷ গত রবিবারের হামলার পর গত এক সপ্তাহে সিসিটিভির কয়েকটিও ভিডিও ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে। বিবিসি প্রকাশিত সংবাদে উঠে এসেছে হামলাকারীর একেবারে শেষ মুহূর্তটি৷
গির্জাতে হামলার ভিডিও একটি ভিডিওতে দেখা গেছে একজন সন্দেহভাজন হামলাকারী তার পিঠে একটি বড় রুকস্যাক নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে কিভাবে নিগোম্বো শহরের একটা গির্জার ভেতরে গিয়ে ঢুকেছে। ভিড়ে ঠাসা সেন্ট সেবাস্টিয়ান গির্জায় তখন ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল। হেঁটে আসার সময় তাকে গির্জার বাইরে এক জায়গা কিছুক্ষণ থেমে একটি শিশুকে হাত দিয়ে আদর করতেও দেখা যায়।
তারপর গির্জার বারান্দা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে গির্জার ভেতরে ঢুকে মোটামুটি সামনের একটি আসনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই গির্জায় নিহতের সংখ্যা একশোরও বেশি৷
তদন্তে উঠে এসেছে ধারাবাহিক ৮টি বিস্ফোরণে জড়িত জঙ্গি সদস্যরা প্রত্যেকেই উচ্চ শিক্ষিত ও বিত্তশালী পরিবারের সন্তান৷ জানা গিয়েছে হামলার মাস্টার মাইন্ড তথা এনটিজে গোষ্ঠীর উগ্র নেতা হাশিম দু বছর দক্ষিণ ভারতে কাটিয়ে গিয়েছে৷ তদন্ত চলছে৷ নতুন করে হামলার আশঙ্কা রয়েছে শ্রীলঙ্কায়৷



