
সুশান্ত কুমার দে
শিশির ভেজা ভোর,পাখিদের শোরগোল
মাঠে মাঠে শিশির কণা- খুশিতে হিল্লোল!
ঘুম ভাঙে খুকুমণির, শিউলি ফুলের ঘ্রাণ
ফুল তুলে মালা গাঁথে শোনে পাখির গান!
কৃষকের মাঠে মাঠে সবজি তোলার তাড়া
ওলকপি, বাঁধাকপি, ফুলকপি দেয় সাড়া।
চারপাশে শক্ত বাঁধন, নেটের তারে ঘেরায়
থরেথরে সিম, বরবটি ঝুলে থাকে বেড়ায়।
কৃষাণ-কৃষাণী খুশিতে তোলে পোক্ত সিম
কুয়াশায় ভিজে ভিজে -গা হয়ে যায় হিম!
কেউ বা তোলে ওলকপি কেউ কপি ফুল
কচি বেগুন মূলা তুলে, কেউ করেছে ভুল।
লাল শাক, পালং শাকের -কে বাঁধে আঁটি
কে তোলে পেঁয়াজ, রসুন খুঁড়ে খুঁড়ে মাটি।
সারা বনে ধারে ধারে আছে -খেজুর গাছ
ফোঁটা ফোঁটা রস ঝরে, শীতের ক’টা মাস।
গাছি আনে রস পেড়ে- ভরে কলসি, ভাড়
রস জ্বেলে গুড় -পাটালী কত সুবাস তার।
নবান্নের পিঠা উৎসবে -নানান আয়োজন
ঢাকুর ঢুকুর ঢেঁকির তাল, শুনি সারাক্ষণ।
পিঠা, পুলির ধুমধাম এ, নেই কারও ঘুম
সারা গাঁয় পাড়ায় পাড়ায় পিঠার মৌসুম!
অতিথি পাখির কলধ্বনিতে -মুখরিত বন
পানকৌড়ি ডানা ঝাঁপটায় নদীতে সিঞ্চন।
কুয়াশায় আচ্ছন্ন, শহরতলীর হাট-বাজার
কর্মজীবী মানুষ হাঁটে,গা ঢাকা সোয়েটার।
নীলাকাশে আঁধারে ঐ, শুভ্র বরণ ধোঁয়ায়
লজ্জা রাঙা সূর্যটা- মাথাটা হঠাৎ নোয়ায়!



