
জসীম উদ্দীন মুহম্মদ
ব্ল্যাকহোলের অন্ধজলে এক বুক সাগর শূন্যতায়
এখনও আমি সেই আগের মতোন, ডানপিটে কিশোর
ঝড় নেই, বাদল নেই আর কোনও দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই
হিমগিরির মতো অচল দাঁড়িয়ে আছি তোমার আঙিনায়
এখনও তাকিয়ে আছি তোমার নীল নয়নের অপেক্ষায়
জানো, কখনও স্মৃতিরা উদ্বেল হয়
কাতর কণ্ঠে কাঁদে আসমানের নীলসিয়া
ডানাহারা পাখির মতোন আমিও ভাসি বাতাসে
কখনও তুলার পেঁজার মতো মরুভূমির বালুকার মতো
মহাসাগরের ধূসর ফেনার মতো
আমার অপেক্ষার কাল প্রহর তবুও শেষ হয় না!
তবুও আশার বসতি বুকের খাঁ খাঁ জমিনে
এক ফোঁটা বৃষ্টির কোমল ছোঁয়ার মতোন
তেপান্তরের মাঠের সেই পঙ্খীরাজ ঘোড়ার মতোন
অমাবশ্যা রাতে হঠাৎ জ্বলে উঠা ধূমকেতুর মতোন
অকূল পাথারে ভাসতে ভাসতে কুড়িয়ে পাওয়া খড়কুটোর মতো
আমার সকল শূন্যতা, আমার অপূর্ণতার সকল তিমির
সুবেহ সাদিকের মতো, চতুর্দশী চাঁদের মতো
গড়ে তোলে স্মৃতির মিনার!
মুহূর্তেই ভুলে যাই না পাওয়ার কষ্ট, শূন্যতা শক্তি দেয়
সাহস দেয়, অমরত্বের ঠিকানা দেয়
এক হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে কপালে এঁকে দেয় বিজয় তিলক
আমি হাসবো কি কাঁদবো; বুঝতে পারছিলাম না
হঠাৎ অপার বিস্ময়ে চেয়ে দেখি এক জোড়া নীলপদ্ম হাতে
তুমি সেই আগের মতোই আমার দিকে তাকিয়ে!



