
৬ লক্ষ টাকা শেখ হাসিনার আয়, ১২ লক্ষ খালেদা জিয়ার
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গোপালগঞ্জ-৩ ও রংপুর-৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৩টি আসন থেকে। যদিও মামলাজনিত কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি ভোটের লড়াই থাকতে পারবেন কি না সেটা নিশ্চিত নয়।
নির্বাচনে প্রার্থী হতে দুজনই জমা দিয়েছেন হলফনামা। নিজের হলফনামায় দেওয়া তথ্যের হিসাবে শেখ হাসিনা মাসে আয় করেন মোট ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৭৮২ টাকা ৮৩ পয়সা। আর খালেদা জিয়ার মাসিক আয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৯৩ টাকা ৯২ পয়সা।
হলফনামায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মামলা সংক্রান্ত তথ্যের ঘরে লিখেছেন- বর্তমানে কোনও ফৌজদারী মামলা নেই। অতীতে ১৬টি মামলা দায়ের হয়েছিল।
অন্যদিকে, খালেদা জিয়া মামলা সংক্রান্ত তথ্যের ঘরে উল্লেখ করেছেন – তার বিরুদ্ধে ৩৪টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে ৭টি মামলা বিচারাধীন। ৪টি মামলা পেন্ডিং আর অন্যগুলো স্থগিত রয়েছে।
শেখ হাসিনা তার শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন- বিএ পাস। আর বিএনপি চেয়ারপারসন তার শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে লিখেছেন- স্বশিক্ষিত।
শেখ হাসিনার হলফনামায় যা আছে
হলফনামায় শেখ হাসিনা তার স্বামীর নাম উল্লেখ করেছেন- এম. এ. ওয়াজেদ, মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা, ঠিকানায় লিখেছেন: বাসা-৫৪, রাস্তা-৫, ধানমণ্ডি আ/এ, নিউমার্কেট, ঢাকা।
শেখ হাসিনা তার আয় উল্লেখ করেছেন— কৃষিখাত থেকে ৩ লাখ টাকা, বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে আয় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬২৫ টাকা। ব্যবসা (রয়্যালিটি বাবদ) থেকে আয় ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯ টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে আয় ১২ লাখ টাকা।
পেশা থেকে আয় উল্লেখ নেই। চাকরি (সম্মানী ভাতা) থেকে আয় ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকার। অন্যান্য খাত থেকে আয় দেখানো হয়েছে ২৭ লাখ ৭৬ হাজার ৭৬০ টাকা। বছরে মোট আয় ৭৭ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৪ হাজার টাকা। সেই হিসাবে মাসে আয় করেন মোট ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৭৮২ টাকা ৮৩ পয়সা।
নির্ভরশীলদের আয়ের তথ্যের ঘরে লেখা হয়েছে- প্রযোজ্য নয়।
শেখ হাসিনার সম্পদের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে- নগদ টাকার পরিমাণ ৮৪ হাজার ৫৭৫ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রা নেই। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমার পরিমাণ ৭ কোটি ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৩ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকা। দানে প্রাপ্ত ৬ লাখ টাকার যানবাহন থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন। অলংকার রয়েছে ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার। এছাড়া ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।
স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে অর্জিত সময়ের মূল্যের ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকার ৬ একর কৃষি জমি আছে। অকৃষি জমি রয়েছে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকার। তার কোনও দায়-দেনা-ঋণ নেই।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে- ১২টি মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। একটি খারিজ হয়েছে। দুটি মামলার বিবরণীতে লেখা হয়েছে- অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে তা সিএমএম আদালত ঢাকা কর্তৃক গৃহীত হয়। অন্যটির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে- এজাহারে নাম ছিল না। চার্জশিটে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলে আদালতের নির্দেশে পুনঃতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার হলফনামায় যা আছে
বেগম খালেদা জিয়া তার হলফনামায় লিখেছেন— স্বামীর নাম- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, মাতার নাম তৈয়বা মজুমদার। ঠিকানায় লিখেছেন : বাড়ী নম্বর ১, রোড নম্বর ৭৯, গুলশান-২ (বর্তমান অবস্থান কেন্দ্রীয় কারাগার, নাজিমুদ্দিন রোড ঢাকা)।
পেশার বিবরণীতে লিখেছেন— বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল- বিএনপির সাংগঠনিক কার্যাবলী পরিচালনা করা।
বেগম খালেদা জিয়া বছরে বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে আয় করেন ৬৭ লাখ ৩১ হাজার ৩১৪টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ব্যাংকে আমানত থেকে আয় ৮৫ লাখ ৯ হাজার ৮১৩ টাকা। তার ওপর
নির্ভরশীলদেরও আয় প্রযোজ্য নয় বলে উল্লেখ করেছেন। বছরে তার মোট আয় ১ কোটি ৫২ লাখ ৪১ হাজার ১২৭ টাকা। মাসে তার আয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৯৩ টাকা ৯২ পয়সা।
নগদ হাতে আছে ৫০ হাজার ৩শ’ টাকা। যানবাহন হিসেবে ৪৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকার দুটি টয়োটা জিপ রয়েছে। সোনা আছে ৫০ তোলা (জহরতসহ)। এছাড়া ৫ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে ১২ হাজার ৩শ’ টাকা মূল্যর ৮ শতাংশ অকৃষি জমি। অর্জনকালীন ১০০ টাকা মূল্যে গুলশানে একটি বাড়ি আছে। আর ৫ টাকা মূল্যের ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি দখলে নেই।
ব্যাংকে তার বিরুদ্ধে কোনও ঋণ নেই। তবে বাড়িভাড়া বাবদ ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে তার।



