
শাহানাজ শিউলী
ওখানে ছিল তমাল গাছ,
অসংখ্য রাধালতার ফুল
বাঁশের বেড়ার শেফালীর সুখের ঘর,
নারিকেল গাছের চিরুল পাতার ফাঁকে
রুপালী থালার চাঁদ।
ওখানে ছকিনার মাটির বাড়ির সামনে একটা উঠান ছিল
উঠানের সাজিনা গাছে পাখিরা কিচিরমিচির করত
ছোট্ট খোকা মা মা করে সারা আঙিনা জুড়ে নেচে বেড়াত।
ওখানে কানাই বাবুর বাড়ির সামনে একটা গাঙ ছিল
মাছেরা খেলতো মুক্তমনে,
সাজু আর রাজু বসে বসে মাছের খেলা দেখত।
তরী বেয়ে ভাটিয়ালি গান করত দুলাল মাঝি।
গাঙের পাড়ে শীতের দিনে রমেশ বাবুর বউ
মিষ্টি রোদে মেলে দিতো ভেজা চুল।
পাড়ার ষোড়শী মেয়ে-বউরা মিলে হাসি-ঠাট্টা,
গল্প, রসিকতায় সেলাই করত নকশীকাঁথা।
নিষ্ঠুর নরপিশাচরা কেড়ে নিল সব সুখ সব শান্তি।
হায়েনার হিংস্র থাবায় রচিত হলো এক কালো অধ্যায়।
মাযের বুকে অঙ্কিত হলো রক্তাক্ত মানচিত্র।
ফিরিয়ে দিল মহামারী,দুভির্ক্ষ আর লাশের পাহাড়
বৃক্ষের শাখায় লাশ,পানিতে লাশ,নদীতে লাশ
কি অপূর্ব লাশের মিলন!
পানি-কাঁদায় জড়াজড়ি, মাখামাখি, গলাগলি করে
পড়েছিল তরুণ-তরুণীর, বৃদ্ধ -শিশুর নিষ্প্রাণ তাজা দেহ।
ঐ যে পাহাড় এখন দেখছো, সে দাঁড়িয়ে আজও সাক্ষী দেয়,
ক্ষুধায় ক্লান্ত কাকেরা লাশের পর লাশ রেখে তৈরী করেছিল লাশের পাহাড়।



