আঞ্চলিকপ্রধান খবরবাংলাদেশ

রাজশাহীতে দুই নারীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

রাজশাহীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে দুই নারীকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন ও মারধর করেছে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ-তরুণী। গত বুধবার সকালে নগরীর আসাম কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী এলে নির্যাতনকারীরা পালিয়ে যায়।

নির্যাতিত দুই নারীর নাম আকলিমা খাতুন শাপলা ও শারমিন আক্তার। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নির্যাতনের শিকার আকলিমার স্বামী রফিকুল ইসলাম। মামলায় আসামি করা হয়েছে আসাম কলোনির বাসিন্দা শাহিন, তার স্ত্রী সাহিদা বেগম, মেয়ে স্নেহা ও মনিরের মেয়ে মুক্তাকে। এ ছাড়া অন্য যারা শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়েছিল, তাদের অজ্ঞাত উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার শারমিন মামলার বাদী রফিকুলের ছোট ভাই মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

শারমিন বলেন, প্রতিবেশী শাহীনের অটোরিকশার গ্যারেজের শব্দদূষণ নিয়ে তাঁর সঙ্গে শুক্রবার সকালে ঝগড়া হয়। এর পরই নিজেদের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে কয়েকজন আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা এসে আমাদের ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসতে বলে। ওরা বলছিল, ক্ষমতায় এখন আমরা। এক মিনিট সময় দেওয়া হলো। এর মধ্যে দরজা না খুললে দরজা ভেঙে আমাদের বের করে আনা হবে। ভয়ে আমি আমার জাকে (ভাসুরের স্ত্রী) মানুষ ডাকতে বলি। শুনে ওরা বলে, শেখ হাসিনাকেই আমরা গদি থেকে নামাইছি। তোর জা মানুষ ডেকে কী করবে? ছাত্রদের কিছু করতে পারবে? তোর কোন বাপ আছে নিয়ে আয়। আমি বললাম, তোমরা না ছাত্র। আমি তোমাদের মায়ের মতো। তখন ওরা ধমক দিয়ে দরজা ভেঙে আমাদের দু’জনকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটাতে লাগল। এ সময় স্নেহা এসে আমাকে চড় দেয়। আমাদের মারের দৃশ্য ভিডিও করতে করতে ওরা বলছিল, ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে।

আসাম কলোনির স্থানীয়রা জানান, শিক্ষার্থী পরিচয়ে যারা ওই নারীদের নির্যাতন করছিল, তাদের গায়ে ট্রাফিক পুলিশের মতো সবুজ কটি ছিল। মারধরের বিষয়টি মীমাংসার অজুহাতে গত দু’দিন নির্যাতিতদের পরিবারকে থানায় মামলা করতে দেওয়া হয়নি। মীমাংসা না হলে শুক্রবার রাতে থানায় মামলা করা হয়। আকলিমা ও শারমিনকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিবেশী সোনিয়া খাতুনও মারধরের শিকার হন। মামলার এজাহারে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।

নির্যাতিত দুই নারীর বাড়ির মালিক স্বপন হাসান বলেন, আকলিমা ও শারমিনের পরিবার মামলার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র ফোন করে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে ঘটনা মীমাংসা করে দেওয়ার জন্য সময় নিয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় তারা এসে সব শুনে বলে, নির্যাতনকারীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনকারীদের কেউ নয়। এ ব্যাপারে নির্যাতিতাদের পরিবার আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহীর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক রাবি শিক্ষার্থী গোলাম কিবরিয়া মোহাম্মদ মেশকাত চৌধুরী বলেন, রাবির সমন্বয়করা ছাড়া শহরে আর কোথাও আমাদের কোনো কমিটি নেই। এ ঘটনায় রাবির কেউ জড়িত নেই। আমাদের কোনো সমন্বয়কও আসাম কলোনি যায়নি। যারা শিক্ষার্থী সেজে গিয়েছিল, তারা ভুয়া।

চন্দ্রিমা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ছাত্রদের পরিচয় জানা যায়নি, তাই অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension