
সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; এটা তাঁর যোগ্যতা বা অযোগ্যতার কোনও মাপকাঠি নয় (অনেকে যেটা আকারে ইঙ্গিতে বলার চেষ্টা করেছেন)। কারণ, রবীন্দ্রনাথের আগেও অনেকে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছেন, এবং পরেও অনেকে জন্মাবেন; কিন্তু বাংলা সাহিত্য জগতে আমরা আর একজন রবীন্দ্রনাথ আজ পর্যন্ত পেলাম না।
বলা যায়, এক বিশাল বট বৃক্ষের ন্যায় বাংলা সাহিত্যের জগতে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। সময়ের শাণিত তরবারি ইতিমধ্যে বাঙালী জাতিকে ক্ষত-বিক্ষত করেছে, বিভক্ত করেছে; অনেক প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, মন্বন্তর-মহামারী আমাদের চিন্তায় এনেছে আমূল পরিবর্তন; কিন্তু আজও রবীন্দ্রনাথ দাঁড়িয়ে আছেন অবিচল। আর আমরা যখন হৃদয়ের দাবদাহে পীড়িত হই; উত্তপ্ত-উদ্ভ্রান্ত মরুময় জীবনের বিপর্যস্ত বেদনার সান্ত্বনা পেতে ছুটে যাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামের সেই মহীরুহের ছায়ায়। আজও আমরা আমাদের হৃদয়ের হাহাকার, আবেগ অনুভূতি প্রকাশের জন্য আশ্রয় নেই তাঁর কবিতা ও গানে। আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাথা-বেদনার নৈর্ব্যক্তিক প্রকাশের শালীন ও সুন্দর মাধ্যম হিসেবেও শেষ ভরসা তাঁর গান ও কবিতা।
বাংলা কবিতা এক কালে পয়ারের বন্ধনযুক্ত, শৃঙ্খলিত জলাশয়ের মতো স্থবির ছিল। ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্পর্শে, অমিত্রাক্ষর ছন্দের যুগান্তকারী আবির্ভাবে শৃঙ্খলিত বাংলা কবিতা পেয়েছিল মুক্তির অপার আনন্দ, চঞ্চল স্রোতস্বিনীর মতো অবিরাম গতি। বাংলা কবিতায় মাইকেল যে আলোর মশাল জ্বলে গেছেন—রবীন্দ্রনাথের হাতে সেই মশাল পেয়েছে সার্থক ঠিকানা। বলা চলে মাইকেল নতুন ছন্দের যে যাত্রা সূচনা করেছিলেন—রবীন্দ্রনাথের হাতে সেই ছন্দ বিধিধ রূপ, বিভিন্ন চেহারায় পেয়েছে তার কাঙ্ক্ষিত সিংহাসন। রবীন্দ্রনাথের মতো খুব কম কবি-ই জীবনব্যাপী ছন্দ নিয়ে এত বিচিত্র গবেষণা করেছেন। বাংলা কবিতায় মাত্রাবৃত্ত ছন্দের প্রবর্তক তিনি, এবং তাঁর হাতে মুক্তক ছন্দ পেয়েছে সার্থক গতি। কবি এবং কবিতা সম্পর্কিত আলোচনায় প্রাসঙ্গিক বিষয় হিসেবে ছন্দের আলোচনা আসতে বাধ্য। কারণ, ছন্দ হচ্ছে কবিতার চলার পথের মতো— যেমন পথ চেনা না থাকলে একজন মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করা সম্ভব নয়; ঠিক তেমনি একজন অন্ধ এবং পথ সম্পর্কে অচেনা ব্যক্তির পক্ষে বলা সম্ভব নয়—গন্তব্য কোথায়, কতটুকু যেতে হবে, কোথায় বাঁক বদল করতে হবে, অথবা কতটুকুই বা করতে হবে; সর্বোপরি সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানো তার পক্ষে অসম্ভব। আর এ কারণেই কবি আল মাহমুদ বলেছেন,—‘যে কবি ছন্দ বোঝে না, সে কবিতার কিছুই বোঝে না।’ মনে হয় আমি আমার আলোচনা থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। কারণ ছন্দ আমার আলোচ্য বিষয় নয়, আমার উদ্দেশ্য ছিল রবীন্দ্রনাথ। তথাপি ছন্দবিহীন রবীন্দ্র আলোচোনা—বন্ধ চোখে হস্তি দর্শনের মতো; যেহেতু রবীন্দ্রনাথের সমগ্র সাহিত্যিক সত্তা সুর ও ছন্দের এক অপরূপ সিম্ফনি। আর একবার যদি কোনও পাঠক বা শ্রোতা এই ছন্দ বা সুরের অপার্থিব জগতে হারিয়ে যায়, তার পক্ষে ফিরে আসা সম্ভব নয়—তার আর মুক্তি নেই।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে সমুদ্রের মতো বিশাল এই রবীন্দ্র জগত এবং ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ, এই দুইয়ের সম্মিলনে আমরা যে রবীন্দ্রনাথকে চিনি, সেই রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আমরা আলোচনা বা সমালোচনা কীভাবে করব, অথবা কোথা থেকে শুরু করব?
যদিও কাজটি খুব কঠিন, এবং এই লেখকের মতো অর্বাচীনের পক্ষে ভুল পথে পরিচালিত হবার সম্ভাবনা অত্যধিক; তথাপি কবি রবীন্দ্রনাথের প্রতি ভালোবাসা থেকে এই কঠিন পথে সাবধানে পা ফেলা যেতেই পারে। আশা করি বিদগ্ধ পাঠক লেখকের ভুল-ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আসলে একজন মহান কবি, সাহিত্যিক বা দার্শনিককে বুঝতে হলে, তাকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে হলে, তাঁর সময়ে, এবং যে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতিতে তিনি সৃষ্টিকর্ম করেছেন—সেই সময়ের মননশীলতার ওপর দাঁড়িয়েই তা করতে হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রোমান্টিক যুগের আপাদমস্তক রোমান্টিক কবি। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়িতে তিনি বেড়ে উঠেছেন একটি অতি সম্ভ্রান্ত পরিবারে, এবং পরিবেশে। সুস্থ-সবল মন ও মানসিকতায় তিনি বেড়ে উঠেছেন; গভীরভাবে, সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে চিনেছেন বিশ্ব প্রকৃতিকে। ‘মানসী’ থেকে ‘গীতাঞ্জলি’র গীতিকাব্য পর্যন্ত প্রেম ও প্রকৃতির প্রতি নৈবেদ্য সাজিয়েছেন একনিষ্ঠ পূজারীর মতো। কিন্তু তাই বলে একবিংশ শতাব্দীর আসন্ন অন্ধকার যে তাঁর চোখ এড়িয়ে গেছে তা নয়। শহরমুখী উদ্বাস্তুর ঢেউ, কৃষকের হাহাকার, শ্রমিকের আর্তনাদ দেখে তাঁর সম্ভ্রান্ত মন বারবার অশান্ত হয়েছে। আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা তাঁর চিন্তায় এনেছে নতুন আবেগ, জালিওয়ানাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি ফিরিয়ে দেন ‘নাইটহুড’ উপাধি। তাই তো কবি বুদ্ধদেব বসু যখন লেখেন,—‘জীবন ও কবিতা বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ যৌবন থেকে মৃত্যুকাল পর্যন্ত একই ধারণা পোষণ করে গেছেন, আর তার ক্ষেত্রে সেটাকেই স্বাভাবিক বলে ভাবা যেতে পারে’—প্রখ্যাত রবীন্দ্র সমালোচক আবু সয়ীদ আইয়ুব সেই মন্তব্য মেনে নিতে পারেননি। আর রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে এই সরলীকরণ সমালোচনা মানতে না পারার কারণ অবশ্যই যৌক্তিক। আমরা যতবার রবীন্দ্রনাথকে গণ্ডির মধ্যে বাঁধতে চেয়েছি, ততবার অবাক ও বিস্ময়ে দেখেছি রবীন্দ্রনাথ সেই গণ্ডি ছিন্ন করে অনেক দূরে অবস্থান করছেন। আমার যখন রবীন্দ্রনাথকে শুধু গীতাঞ্জলির রবীন্দ্রনাথ ভাবতে শুরু করেছি, ততদিনে তিনি তাঁর সোনার তরী গীতাঞ্জলির নোঙর তুলে ভাসিয়ে দিয়েছেন দূরে, আরও দূরে, অজানায়—
‘বন্দরের বন্ধন কাল এবারের মতো হলো শেষ
পুরানো সঞ্চয় নিয়ে ফিরে ফিরে শুধু বেচাকেনা
আর চলিবে না।
বঞ্চনা বাড়িয়া ওঠে, ফুরায় সত্যের যত পুঁজি,
কান্ডারী ডাকিছে তাই বুঝি—
তুফানের মাঝখানে
নতুন সমুদ্রতীরপানে
দিতে হবে পাড়ি।’
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন সম্পর্কে সামান্য আলোচনা না করলেই নয়। তা হচ্ছে: কবির কাজ কী? কবি কি আসলে সমাজ সংস্কারক? কবিতার কাজ কি বিপ্লব করা? কবিতার বিদগ্ধ পাঠক, সমালোচকের উত্তর নিশ্চয়ই ‘না‘ সূচকই হবে।
আসলে কবি, অথবা কবিতার কাজ সমাজ পরিবর্তন নয়; কিংবা বিপ্লবও নয়। এগুলো সব সমাজ সংস্কারক বা রাজনীতিবিদের কাজ। কবি এবং কবিতার কাজ হচ্ছে মানুষের চৈতন্যের চঞ্চলতা সৃষ্টি করা— কোনও একটি বিষয়, অথবা কবির একান্ত নিজস্ব অনুভব বা অনুভূতি শৈল্পিক আকারে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা। একজন পাঠক কীভাবে তা গ্রহণ করবে, অথবা কতটুকুই বা গ্রহণ করবে, সেটা নিতান্তই তার ব্যক্তিগত এক্তিয়ার। একজন কবির আবেগ যখন সমাজের আরও অনেকের আবেগের সাথে সা ধোন লজমঞ্জস্যতা খুঁজে পায়, তখন সেই আবেগ বা কবিতা হয় সর্বজনীন এবং সার্থক। কবিতার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে ভাবতে বাধ্য করা; পার্থিব অথবা অপার্থিব জগতের দ্বার উন্মোচন করা। কবিতা হচ্ছে রহস্যময়তার আবরণে ব্যক্ত ও অব্যক্ত আবেগের অনুরণন। কারণ, কবিতায় যদি নিগুঢ় রহস্যের বাতাবরণ না থাকে, তাহলে সেটা আর যাই হোক কবিতা থাকে না— হয়ে যায় গদ্য, প্রবন্ধ অথবা উপন্যাস।
’জানি—তবু জানি
নারীর হৃদয়—প্রেম—শিশু—গৃহ—নয় সবখানি,
অর্থ নয়, কীর্তি নয়, স্বচ্ছলতা নয়—
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;’
(আট বছর আগের একদিন—জীবনানন্দ দাশ)
এই যে ব্যাখ্যাহীন বিপন্ন বিষয়— এটাই কবিতা। বলা চলে কবিতা হচ্ছে গণিতের সাংকেতিক চিহ্ন ‘পাই’ এর মতো। ‘পাই’ এর মান যদি নির্ণয় করা যেত, তবে ‘পাই’ নিয়ে সমগ্র সভ্যতা জুড়ে এই বিস্ময়বোধ আর থাকত না। রবীন্দ্রনাথ তাঁর সমস্ত জীবন জুড়ে যে শাশ্বত সুন্দরের সাধনা করেছেন, যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন, হয়ত বা তিনিও তাঁর কাঙ্ক্ষিত উত্তর পান নাই;
আর সেই জন্যেই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে আলোড়িত করেছে যে প্রশ্ন, তা যুগ থেকে যুগান্তরে প্রতিধ্বনি তুলবে অনন্তকাল—এখানেই রবীন্দ্রকাব্যের সার্থকতা।
‘প্রথম দিনের সূর্য
প্রশ্ন করেছিল
সত্তার নতুন আবির্ভাবে—
কে তুমি।
মেলে নি উত্তর।
বৎসর বৎসর চলে গেল,
দিবসের শেষ সূর্য
শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল পশ্চিমসাগর তীরে,
নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়—
কে তুমি।
পেল না উত্তর।’
গত শতাব্দীর ত্রিশের দশকে শুরু হয়েছিল এক নব কাব্য আন্দোলন। কল্লোল যুগ নামে যার পরিচয়; এটা ছিল অনিবার্য।
কারণ, যুগ বদলে যাচ্ছিল, সাথে বদলাচ্ছিল মানুষের রুচি, চিন্তাধারা, সর্বোপরি অর্থনৈতিক সম্পর্ক। স্বাভাবিকভাবেই পুরাতন আবেগ নতুন আকাঙ্ক্ষাকে আর ধারণ করতে পারছিল না। অতএব, কবিতার রূপ ও রসের পরিবর্তন ছিল অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু এই আন্দোলনের আর একটা দিক ছিল রবীন্দ্র প্রভাব মুক্তির প্রচেষ্টা; আর এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অনেকে কারণে অকারণে রবীন্দ্রনাথকে দাঁড় করিয়েছেন কবিতার কাঠগড়ায়। এই ক্ষেত্রে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ’ কাব্যের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। মাইকেল যখন এই যুগান্তকারী মহাকাব্যটি লিখলেন, তখন কূপমণ্ডূক সমালোচনার তীক্ষ্ণ তীর তাকে বিদ্ধ করেছিল। কিছু অতি উৎসাহী সমালোচক তো এটাকে মহাকাব্য কেন কাব্য হিসেবেই মানতে চান নাই। একজন আবার ‘ছুছুন্দরি-বধ কাব্য’ নামে একটা প্যারোডি ও প্রকাশ করেছিলেন। অথচ সেই সব সমালোচক আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন, আর কাব্য হিসেবে মেঘনাদবধ বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ হিসাবে অমরত্ব লাভ করেছে। তদ্রুপ আমরাও অনেক সময় কারণে-অকারণে না বুঝেই রবীন্দ্রনাথকে বিদ্ধ করি। কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই তো আর রবির আলো নিভে যায় না— এক ঘটি জল তুলে নিলেও সমুদ্র শুকাবে না। যে রহস্যের বাতাবরণ, যে বিস্ময়বোধ আমরা রবীন্দ্রকাব্যে পাই—রবীন্দ্র সঙ্গীতেও তা সমান্তরাল ভাবে বহমান। যেমন—
’ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কিবা মৃদু বায়
তটিনী হিল্লোল তুলে কল্লোলে চলিয়া যায়
পিক কিবা কুঞ্জে কুঞ্জে কুহু কুহু কুহু গায়
কী জানি কিসের লাগি প্রাণ করে হায় হায়।
অনেক কিছু পাবার পরেও হয়ত কিছু না পাবার বোধ আমাদের ক্লান্ত করে। হৃদয়ের কোনও এক কোণে হয়তো করুণ, অথচ মধুর এক সুর বাজে; আমরা আচ্ছন্ন হই, আপ্লুত হই সেই অচেনা সুরের মূর্ছনায়; আর বারবার ফিরে যাই রবীন্দ্রনাথের কাছে। আবু সয়ীদ আইয়ুব যথার্থই বলেছেন,—’রবীন্দ্রনাথের দর্শন শ্রদ্ধেয়, কিন্তু আরো অনেক উর্দ্ধে তাঁর দার্শনিক অপূর্ণতা-ও অতৃপ্তি-সম্ভুত গীতিকাব্যের স্থান।’
(আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ)
‘আধুনিক’ শব্দটি আপেক্ষিক। আজ যেটা আধুনিক—আগামীকাল সেটাই হয়তবা পুরাতন। ইতিমধ্যে রবীন্দ্রোত্তোর আধুনিক কবিতা তার ‘আধুনিক’ তকমা হারিয়েছে। হয়ত একদিন রবীন্দ্রকাব্য আধুনিকোত্তর অতিআধুনিক জটিলতা, মন-মানসিকতা ধারণ করতে পারবে না। কিন্তু তবুও বাঙালী মন ও মানসিকতায় রবীন্দ্র সঙ্গীতের স্থান চিরন্তন পর্যায়ের। হয়তো বা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাথা-বেদনা, অপার আনন্দের কোনও এক দুর্লভ মুহূর্তে হৃদয়ের গহীন-গহ্বরে রবীন্দ্র সঙ্গীতের অবিনাশী সুর মূর্ছনা তুলবে নীরব ঝংকার; কখন কোথায় তা আমরা নিজেরাও জানতে পারব না। আর তখন আমাদের অবচেতন মনে ভেসে উঠবে ঋষিতুল্য এক সৌম্য-শান্ত রবীন্দ্রনাথ।



