
প্রথম নারী শিক্ষা সচিব হলেন রেহানা পারভীন
তিন সপ্তাহের বেশি সময় ফাঁকা থাকার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রধান হিসেবে রেহানা পারভীনকে বেছে নিয়েছে সরকার, যিনি দেশের প্রথম নারী শিক্ষা সচিব হলেন।
সোমবার জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান রেহানা পারভীনকে এ দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
স্বাধীনতার পর এই প্রথম শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে প্রথম নারী সচিবের দায়িত্ব পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। মন্ত্রালয়ে সাবেক সচিবদের তালিকাতেও কোনো নারী কর্মকর্তার নাম নেই।
মাইলস্টোন স্কুলে গত ২১ জুলাই বিমান বিধ্বস্তের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের জেরে আগের সচিব সিদ্দিক জোবায়েরকে সরিয়ে দেয় সরকার। এখন সেই দায়িত্বে এলেন বিসিএস ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন। এতদিন সচিব পদমর্যাদায় তিনি এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সাবেক সচিবদের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৭২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একীভূত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৩২ জন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ভাগ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ছয়জনসহ মোট ৩৮ জন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর রেহানা পারভীন প্রথম নারী কর্মকর্তা যিনি এ বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পেলেন।
এর আগে গত ২৩ জুলাই আগের শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জোবায়েরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে হতাহতের ঘটনার পর এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করতে দেরি হওয়ায় গত ২২ জুলাই শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ও শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে কয়েকশ শিক্ষার্থী।
তারা সচিবালয়ে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। ওই ঘটনার মধ্যে শিক্ষা সচিবকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার।
এর দুদিন পর থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন অতিরিক্ত সচিব মো. মজিবর রহমান।
ক্ষমতার পালা বদলের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল সিদ্দিক জুবায়েরকে। সে সময় বলা হয়েছিল, তার নিয়োগের মেয়াদ হবে দুই বছর।



