যুক্তরাষ্ট্র

নির্বাচনের পরাজয়ে প্রভাব ফেলেছে ইরান যুদ্ধ, স্বীকার করে নিলেন ট্রাম্প

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় এই পরাজয়ের একটি বড় অংশ ছিল ইরান ইস্যু। ইরান সংঘাত নিশ্চিতভাবেই এর অন্যতম একটি কারণ ছিল।”

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যৌথ উদ্যোগে শুরু করা যুদ্ধ—এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে, একথা স্বীকার করে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে তাঁর রিপাবলিকান দলের ভরাডুবি আর বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের হাতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয়ের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার পরেই এল ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি।

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় এই পরাজয়ের একটি বড় অংশ ছিল ইরান ইস্যু। ইরান সংঘাত নিশ্চিতভাবেই এর অন্যতম একটি কারণ ছিল।”

এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় ট্রাম্প “নতুন কোনো যুদ্ধ নয়” এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মার্কিন ভোটারদের। কিন্তু, সেটি তিনি লঙ্ঘন করেছেন। সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ব্যাপক আসন হাতছাড়া হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা চালানোকে সঠিক মনে করছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “আমি সঠিক কাজটাই করেছি। যদি আবার পরিস্থিতি তেমন হতো, আমি আবারও একই সিদ্ধান্ত নিতাম।”

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থা গড়িয়েছে ৯ মাসে। শুরু থেকেই ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত সাধারণ মার্কিনীদের কাছে অপ্রিয় ও উদ্বেগজনক হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণাজুড়ে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীরা দেশজুড়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের আকাশচুম্বী দাম, মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের এই যুদ্ধনীতিকে সরাসরি দায়ী করে প্রচারণা চালান।

এ যুদ্ধের আসল লক্ষ্য ও সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন সময়ে করা সাংঘর্ষিক মন্তব্যও মার্কিন ভোটারদের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তি তৈরি করে—যেখানে তিনি একদিকে মার্কিন সামরিক হামলা আরও জোরদার করার হুমকি দিচ্ছিলেন, আবার অন্যদিকে চাইলেই মুহূর্তের মধ্যে এই সংঘাত শেষ করতে পারেন বলেও দাবি করছিলেন।

এদিকে ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের এই ভূমিধস জয় এবং রিপাবলিকানদের পরাজয়ের খবরকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সন্তোষজনক হিসেবে দেখেছে তেহরান।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ মন্তব্য করেন, “আমেরিকান জনগণ সরাসরি ‘যুদ্ধকে না’ বলেছে, এবং আমরা তাদের এই স্পষ্ট বার্তাকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানাই।”

ক্যাপিটল হিলের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে ট্রাম্পের যুদ্ধ নীতি, প্রতিরক্ষা বাজেট এবং ইরানের ওপর একক সামরিক পদক্ষেপের ক্ষমতা— ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে কংগ্রেসে তদন্ত ও আইনি বাধার মুখোমুখি হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension