
গণভবনের নাম ভাঙ্গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাঁদাবাজি
নতুন মিশনে ড. ইউনূসের ভক্ত
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: হঠাৎ গজিয়ে উঠা একটি সংগঠনের জন্যে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বাংলাদেশের গণভবন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলের নাম ভাঙ্গিয়ে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনকে নিয়ে গত বছরের প্রথমার্ধে ডিসিতে একটি ডিনার পার্টির মাধ্যমে ‘আমেরিকা বাংলাদেশ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ তথা এবিসি কাউন্সিল’ এর আবির্ভাব ঘটলেও দ্বিতীয় কোন অনুষ্ঠান হয়নি এখন পর্যন্ত। তবে ভেতরে ভেতরে তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। পরিচালনা পর্ষদে সদস্য হতে আগ্রহীদের কাছে ৫ হাজার ডলার এবং নির্বাহী সদস্য হতে আগ্রহীদের কাছে থেকে দুই হাজার ডলার করে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এই অর্থ চেয়ে এবিসি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান দাবি করে মোহাম্মদ আলমগীর নামক এক ব্যক্তি বিভিন্ন জনের কাছে ই-মেইল পাঠিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি এমন একটি সংগঠন যেটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্পৃক্ত হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং উপদেষ্টাগণের স্বীকৃতি/আশির্বাদ পাবে, এরমধ্যে থাকবেন বিচারপতি এবং কংগ্রেসম্যানরা।’ এ ব্যাপারে অনুসন্ধানকালে এবিসি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম পরিচালক রেহান রেজা এ সংবাদদাতাকে জানান, ‘আমাদের এ সংগঠনের পরিচালক এবং সদস্য নিযোগের সিদ্ধান্ত হয়েছে নির্দ্ধারিত ফি’র বিনিময়ে। তবে আমাদের কোন চেয়ারম্যান পদ এখনও তৈরী হয়নি। আমরা বাংলাদেশের জন্যে কিছু করার চেষ্টা করছি।’

‘প্রধানমন্ত্রীর অফিস তথা গণভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণের দোহাই দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। তবে আমরা কাজ করছি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের পরামর্শ অনুযায়ী’-বলেন রেহান রেজা। উল্লেখ্য, এবিসি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালকদের মধ্যে দূতাবাসের একজনের নামও রয়েছে। আরো উল্লেখ্য, এবিসি কাউন্সিলের কথিত এই চেয়ারম্যানের সাথে যুক্ত হয়েছেন আজাদুল হক নামক আরেক ব্যক্তি, যিনি ক’বছর আগে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ড. ইউনূসকে নিয়ে অনুষ্ঠান করেছেন। এই আজাদুল হক হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সান্নিধ্য লাভে সচেষ্ট হয়ে উঠেছেন কেন সে প্রশ্নও ঘোরপাক খাচ্ছে সমগ্র প্রবাসে।
চেয়ারম্যান পরিচয়ে বিভিন্ন জনের কাছে ৫ হাজার ডলার চেয়ে ই-মেইল প্রদানকারি মোহাম্মদ আলমগীর নামক ব্যক্তিটি নিজের ফেসবুক স্ট্যটাসেও একই পরিচিতি উল্লেখ করেছেন। এই ব্যক্তিটি বহু প্রবাসীকে গ্রীণকার্ড পাইয়ে দেয়ার মামলা পরিচালনাকালে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রতারণ্,া জালিয়াতি, অর্থ পাচারসহ ১৬৪ ধরনের অভিযোগের দোষ স্বীকার করেন ২০০৪ সালের এপ্রিলে। এরপর ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে (ক্রিমিনাল কেস ০৪-১১৯)’র মাননীয় বিচারকের রায়ে ৪০ মাস কারাদন্ড ভোগ করার পাশাপাশি প্রতারণা ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত দুই মিলিয়ন ডলারও বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই মামলার রায়ের সময় মোহাম্মদ আলমগীরের ‘এটর্নী’ সার্টিফিকেট কেড়ে নেয়া হয়েছে। অভিবাসনের এটর্নী হিসেবেই এসব অপকর্ম করেছিলেন তিনি। এমন দন্ডিত ব্যক্তির নেতৃত্বে এবিসি কাউন্সিল কেন করলেন এ প্রসঙ্গে রেহান রেজা বলেন, ‘সেটি তো অনেক পুরনো বিষয়। সেটি নিয়ে এখন টানাটানির প্রয়োজন কেন?’
অনুসন্ধানকালে আরো জানা গেছে, গত বছর ৫ এপ্রিল আত্মপ্রকাশকারী অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘এবিসি কাউন্সিল’র দৃশ্যমান কোন কাজকর্ম পরিলক্ষিত হয়নি। তবে তাদের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, আসছে ৩১ মে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের সদস্যরা বাংলাদেশ সফর করবেন। ডেমক্র্যাট এবং রিপাবলিকান-উভয় পার্টির সমন্বয়ে এই টিম ঢাকায় যাবে এবিসি কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনায়। এছাড়া, ২৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও ঢাকা সফর করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এবিসি কাউন্সিলের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয় মোহাম্মদ আলমগীরের সাথে। কিন্তু টেলিফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।
এমনি অবস্থায় অতি সম্প্রতি ‘বিটুবি’ (ব্রিজ টু বাংলাদেশ) নামক আরেকটি সংগঠনের আবির্ভাব ঘটিয়েছেন মোহাম্মদ আলমগীরসহ বেশ ক’জন। তারা এ মাসের ২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় সোনারগাঁও হোটেলে এনআরবি ইঞ্জিনিয়ার্স কনভেনশনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই কনভেনশনে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এমন প্রচারণাও রয়েছে প্রবাসে। অভিযোগ উঠেছে, প্রবাসের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বাংলাদেশে সম্মেলনের ঘোষণা দেয়া হলেও ‘বিটুবি’ নামক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্তদের সিংহভাগই ইঞ্জিনিয়ার নন। এনআরবি সম্মেলনে পৃষ্টপোষকতা দিচ্ছেন গণভবনের লোকজন এবং বাংলাদেশের বিশিষ্টজনেরা- এমন প্রচারণাও চালানো হচ্ছে বিটুবি থেকে। এনআরবি ইঞ্জিনিয়ার্স কনভেনশনের জন্যে গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন আজাদুল হক। টেক্সাসে বসবাসরত আজাদুল হক কয়েক বছর আগে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসের মুখপাত্র হিসেবে দেশ ও প্রবাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেছেন। হঠাৎ করে ইউনূসকে ছেড়ে শেখ হাসিনার বন্দনা কেন শুরু করেছেন-সে প্রশ্নও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারে। এছাড়া, বিগত দিনে আজাদুল হককে কখনোই কোন জনকল্যাণমূলক কাজে অথবা আর্তমানবতার ডাকে সাড়া দিতে দেখা যায়নি।


ছবির ক্যাপশন-১ আলমগীর
মোহাম্মদ আলমগীর। ।
ছবির ক্যাপশন-২ আলমগীর
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা চেয়ে মোহাম্মদ আলমগীরের ই-মেইল।
ছবির ক্যাপশন-৩ আলমগীর
একটি অনুষ্ঠানে ড. মুহম্মদ ইউনূসের পাশে আজাদুল হক।
ছবির ক্যাপশন-৪ আলমগীর
ঢাকায় এ মাসের শেষে অনুষ্ঠেয় এনআরবি ইঞ্জিনিয়ার্স কনভেনশনে ‘ব্রিজ টু বাংলাদেশ’ টিমের সদস্য হিসেবে নবউদ্যমে মাঠে নেমেছেন আজাদুল হকের সাথে সেই মো. আলমগীর।



