
নোয়াখালীতে গৃহবধূকে নগ্ন করে নির্যাতনের ঘটনা ৩২ দিন আগেই ঘটেছিল
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে নগ্ন করে নির্যাতন করেছে একদল যুবক। মোবাইল ফোনে সেই নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে তারা। এক মাসেরও বেশী সময় আগে গেল ২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের পর গৃহবধূ ও তার পরিবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় একজন জানায়, ওই গৃহবধূর বিয়ে হয় বছর তিনেক আগে। স্বামী তাকে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করতে থাকে। দীর্ঘদিন স্বামীর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামী তার সঙ্গে দেখা করতে আসে। মাদক ব্যবসায়ী দেলোয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তার লোকজন নিয়ে রাত ১০টার দিকে গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করে ‘অনৈতিক’ কাজের অভিযোগ এনে তাকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ওই নারীকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করে তারা।
ওই নারীর এক প্রতিবেশী জানান, মূলত ‘অনৈতিক কাজের অপবাধ’ দিয়ে নির্যাতন করায় আমরা কেউ কথা বলতে পারি নি। তাছাড়া প্রভাবশালী দেলোয়ারের ভয়ও ছিল।
জানা যায়, একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এক নারী দাম্পত্য কলহের জেরে কয়েক মাস বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে স্থানীয় যুবক আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে এবং অশালীন প্রস্তাব দেয়। মূলত সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণেই নির্যাতনের সুযোগ খুঁজছিল।
এদিকে ঘটনার ৩২ দিন পর রোববার দুপুরে নির্যাতনের ওই ভিডিও কেউ একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশও তৎপর হয়ে ওঠে। পুলিশ জানতে পারে, স্থানীয় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড বাদল এবং কর্মী রহিম, সুমনসহ পাঁচ-ছয়জন গৃহবধূর সঙ্গে এমন বর্বর আচরণ করেছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের খালপাড় এলাকার হারিদন ভূঁইয়াবাড়ির শেখ আহম্মদ দুলালের ছেলে মো. আবদুর রহিম (২০) ও একই এলাকার মোহর আলী মুন্সিবাড়ির মৃত আবদুর রহিমের ছেলে মো. রহমত উল্যাহ (৪১), দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও মামলার প্রধান আসামি বাদল।❐



