
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতীয় শোক দিবস পালন
আজ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়। মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্থানীয় সময় সকাল ১১ টায় আয়োজন করা হয় জাতীয় শোক দিবসের এ অনুষ্ঠান। কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে মিশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সরাসরি ও ভার্চুয়াল অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিশ্র উপায়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, শেখ হাসিনা মঞ্চের নেতৃবৃন্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাগণসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিগণ ভার্চুয়ালভাবে অংশগ্রহণ করেন। মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত জাতির পিতার ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালনের এই কর্মসূচি জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু করা হয়। এরপর জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং তাঁদের শহীদ পরিবারবর্গসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অত:পর ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার নেতৃত্বে মিশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণ। এরপর দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বিশ্বব্যাপী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রাক্কালে এবারের জাতীয় শোক দিবসের এ অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে মর্মে স্বাগত ভাষণে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রূপকল্প ২০২১, রূপকল্প ২০৪১ এবং ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে সকলকে আরও নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নিদের্শনা ও নেতৃত্বে আমরা জাতিসংঘে ফলপ্রসু অংশগ্রহণ ও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখে চলেছি। শান্তিরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর ক্ষমতায়নসহ অসংখ্য বহুপাক্ষিক বিষয়ে আমাদের নিবিড় ও নেতৃত্বশীল অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ আজ একমর্যাদা পূর্ণ নাম।”
পঁচাত্তরের পনের আগস্টের প্রেক্ষাপটসহ জাতির পিতার জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। ইতোমধ্যে জাতির পিতা হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছে মর্মে উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “এখনও দন্ডপ্রাপ্ত খুনীদের কেউ কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা আমাদের সকলের দায়িত্ব”। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে আরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। তিনি বলেন, “আমরা চাই জাতির পিতার কোনো খুনীই যেন বিচারের হাত থেকে পার না পায়।”
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে জাতির পিতার জীবন ও কর্ম চর্চার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, “প্রতিনিয়ত জাতির পিতার জীবন ও আদর্শ চর্চার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে দেশপ্রেমিক, উন্নত চিন্তার নতুন প্রজন্ম যারা জাতির পিতার সোনার বাংলা বিনির্মাণে অবদান রাখবে। দেশকে ভালোবাসবে, দেশকে নিয়ে চিন্তা করবে, দেশের উন্নয়নে গর্ব বোধ করবে।”
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সন্তানগণ। বক্তাগণ পনের আগস্টের এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার মাধ্যমে জাতির পিতা যে স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন স্ব স্ব অবস্থান থেকে তা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



