আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে যোগ দিতে চায় তালেবান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশন শুরু হয়েছে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে। যা চলবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। চলতি এ অধিবেশনে যোগ দিতে চায় আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এবিষয়ে সোমবার জাতিসংঘকে একটি চিঠি দিয়েছে তালেবান।

জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। এর মধ্যে দোহা থেকে কাজ করা তালেবান মুখপাত্র সুহাইল শাহিনকে জাতিসংঘে আফগানিস্তানের দূত হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফানে ডুজারিখ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করা তালেবান জানিয়েছে জাতিসংঘে আফগানিস্তানের পূর্ববর্তী দূত এখন আর দেশটির প্রতিনিধিত্ব করে না। এবিষয়ে জাতিসংঘের একজন মুখপাত্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তালেবানের জাতিসংঘে শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনায় যোগ দিতে চাওয়ার অনুরোধ যাচাই করবে ৯ সদস্যের একটি কমিটি, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া।

তবে আগামী সোমবার সাধারণ সভা শেষ হওয়ার আগে এই কমিটির বৈঠকে বসার সম্ভাবান নেই। কাজেই সে পর্যন্ত জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, বৈশ্বিক সংগঠনটির কাছে আফগানিস্তানের মুখপাত্র হিসেবে বিবেচিত হবেন আশরাফ গনির সরকারের মনোনয়ন দেয়া গুলাম ইসাকজাই।

সাধারণ সম্মেলনের শেষদিন, ২৭শে সেপ্টেম্বর, বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে তার। তবে তালেবান বলছে, তার কার্যক্রম ‘আর আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করে না।’ সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানিকে বিশ্বের অনেক দেশ এখন আর স্বীকৃতি দেয় না বলেও মন্তব্য করেছে তালেবান।

জাতিসংঘে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসাকজাই আর আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছেন না। তার জায়গায় সুহাইল শাহিনকে স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে তালেবান। সুহাইল শাহিন তালেবানের অন্যতম মুখপাত্র। কাতারের দোহা থেকে তালেবানের হয়ে কাজ করেন তিনি।

এদিকে মঙ্গলবার জাতিসংঘের বৈঠকে কাতার বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানায় যেন তারা তালেবানের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।

কাতারের শাসক শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, “তাদের বর্জন করার মাধ্যমে শুধুমাত্র মেরুকরণ বাড়বে এবং তার ফলে প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে। এর পরিবর্তে আলোচনার চেষ্টা করলে তা ফলপ্রসূ হতে পারে।”

আফগানিস্তানের সাথে আলোচনায় এর আগেও অীন্যতম মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে কাতার। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করেছিল কাতার, যা আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের চুক্তিতে বড় ভূমিকা পালন করেছিল।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension