
কিছু কিছু বায়না পূরণের আগেই হারিয়ে গেলো আহ্লাদ করার অধিকারটুকু,
খুব সন্নিকটে গন্তব্যের শহর, কিন্তু তার আগেই ভরসার হাত ছুটে গেলো মাঝপথে।
কিছু কিছু স্বপ্ন পূরনের আগে,
মাঝ রাতেই ঘুমের আচ্ছন্ন কেটে গেলো।
কিছু কিছু আশার আলো দুয়ারে কড়া নাড়ার আগ মুহূর্তেই
হতাশার পর্দা ঢেকে দিলো মনের দরজা।
ঝুম বৃষ্টিতে ভিজবো বলে পা বাড়ালাম খোলা প্রান্তরে ঠিক যেনো আকাশের একদম কাছে,
ওমা পরক্ষনেই দেখি,
কালো জমাট বাঁধা মেঘ কাটিয়ে উপহাসের হাসি দিয়ে সূর্য উঁকি দিলো পূব আকাশে,
বৃষ্টিতে আর ভেজা হলো না,
রৌদ্র গায়ে জড়িয়ে ফিরতে হলো আপন গৃহে।
অবেলায় কোকিলের কুহূ কুহূ সুরের মূর্ছনা ভেসে আসে,
আমি জানি ভ্রান্ত প্রেমের বাসনা এ যে, অবেলায় তাই কোকিল ডাকে।
তাই আজ কোকিলের সুরকে অগ্রাহ্য করে,
কর্কশ কাকের ডাক মধুর লাগে,
ভ্রান্ত প্রেম ক্ষণিকের সুখ আনে,
সুখের চেয়ে কষ্টের সুর বেশিই বাজে,
থাক না ক্ষণিকের সুখের মোহ,
আজ না হয় নিজেকে হারিয়ে ফেলি
কোনো এক নির্জন নদীর তীরে শুধুমাত্র নিজের মতো করে।
আমার সীমানার মাঝে তুমি নেই,
তোমার অধিকারে আমার কোনো অভিযোগ নেই।
সবটা জুড়েই তুমি,
কিন্তু এটাও মানি অন্য কারো অনুরাগের মাঝে বসবাস করো তুমি!
দিনের শুরু থেকে শেষ অবধি যেখানে লিখে যাই আমাদের ভালোবাসার পাণ্ডুলিপি, কিন্তু
রাতের শুরুতেই সেথায় বসবাস করে তুমিহীন আমি এক অমীমাংসিত কবিতার চরণ হয়ে।
নিশ্চুপ রাতের ক্রন্দনগুলো ভোরের কুয়াশা হয়ে ঝরে,
কেউ কি তা বোঝে, সবাই কেবল কুয়াশা ঘেরা ভোরের স্নিগ্ধতা উপভোগ করে,
কেবল কুয়াশাই জানে স্নিগ্ধতার আড়ালে রাতের একাকিত্বের আত্মচিৎকার।
ঝরা পাতার মর্মর আওয়াজের মাঝে বাজে।
যেমন করে ঝরা পাতার আর্তনাদ শোনে না কেউ,
সবাই ব্যস্ত কচি পল্লবের আগমনের সুখে বার্তা পৌঁছে দেবার।
ঝরা পাতা সেতো ধূলোয় মিশে যায়,
কালেভাদ্রে কারো কারো ক্যানভাসে রঙ তুলির আঁচড়ে বিমর্ষ অবয়বের চিত্রপট হিসেবে বাঁধা পরে।
ঝড়া পাতাদের কাছে সেটাই বড় পাওয়া কারো মনের অনুভূতি হয়ে তো সে তাকে এতটুকু স্বস্তি দিতে পারলো,
ঝরা পাতা নিঃস্বার্থ ভাবে নিজেকে বিলিয়ে যায়,
প্রতি উত্তরে তারা কিছুই চায় না,
কারণ তারা জানে প্রতিবার বসন্ত আসবে আর নতুনদের জয়গান হবে,
ঝরা পাতাই কেবল পরে রবে অবেহেলার পদতলে।



