
পানিবাহিত রোগের বিস্তারে পাকিস্তানে নতুন বিপর্যয়
পাকিস্তানে বন্যার প্রকোপ কমতে না কমতেই দেখা দিয়েছে নতুন বিপর্যয়। লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। এতে সবথেকে বেশি ঝুঁকিতে আছে দেশটির নারী ও শিশুরা। সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার এমন উদ্বেগের কথা জানিয়েছে ইউনিসেফ।
জিও টিভি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বন্যায় পাকিস্তানে মারা গেছেন ১৫০০ জনেরও বেশি। ঘরহারা হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। তবে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। কিন্তু নতুন করে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করায় দুর্ভোগ কমছে না মানুষের। আবার কিছু অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। কর্মকর্তারা এখন বলছেন, সম্পূর্ণ বন্যার পানি নামতে এলাকা ভেদে দুই থেকে ছয় মাস লাগতে পারে।
কিন্তু এরইমধ্যে বন্যা কবলিত অঞ্চলগুলোতে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ডাইরিয়া এবং চর্ম রোগ ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ সিন্ধুর সরকারি তথ্য বলছে, শুধু এই এক প্রদেশেই বৃহস্পতিবার ৯০ হাজার জনকে পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আর এগুলো হয়েছে এই বন্যার কারণে। গত জুলাই মাস থেকে মোট ২৩ লাখ মানুষকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এ ধরণের রোগে।
উল্লেখ্য, রেকর্ড বৃষ্টির কারণে বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। কিন্তু এখনও দুর্দশা কমছে না পাকিস্তানের নাগরিকদের। দীর্ঘ বন্যায় দেশটির প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের বিশাল এলাকাজুড়ে বাড়ি, শস্য, সেতু, রাস্তা এবং প্রানিসম্পদের বড় ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া প্রাণ হারিয়েছে ১৫০৮ জন। এরমধ্যে ৫৩৬ শিশু এবং ৩০৮ নারীও রয়েছে।



