
টোকিওতে সমকামি দম্পতিরা পাবে সার্টিফিকেট
জাপানের রাজধানীতে থাকেন এবং কাজ করেন এমন সমকামী দম্পতিদের সার্টিফিকেট দেয়া শুরু করেছে টোকিও পৌরসভা। ১ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সার্টিফিকেট দেয়া শুরু হবে।
দেশটিতে আইনগতভাবে সমলিঙ্গ বিয়ে নিষিদ্ধ এবং নতুন সার্টিফিকেট সমলিঙ্গ বিয়ের বৈধতা দেবে না।
তবে এই সার্টিফিকেট বাসা কেনা-বেচা, স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যানখাতের সেবা নেয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। অন্যান্য বিষমকামী দম্পতিদের মতো তারাও বাড়ি ভাড়া নিতে পারবে, লোন তুলতে পারবে।
অনেক সমকামী দম্পতিই বলছেন, তাদের পার্টনারশিপের নতুন এই স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন আরও উন্নত হবে, জরুরি মেডিক্যাল সেবার ক্ষেত্রেও কাগজপত্রে সাইন করতে পারবে এবং উত্তরাধিকার ঠিক করতে পারবে।
সমকামি পার্টনারশিপ স্বীকৃতির জন্য টোকিও কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা সোয়োকা ইয়ামামোতো বলেন, ‘এই প্রথম আমরা দম্পতি হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পেলাম। এখন অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। কিন্তু আমি নিরাপদবোধ করছি।’
৩৭ বছর বয়সী ইয়ামামোতো ও তার পার্টনার এই দিনটির জন্য ১১ বছর ধরে অপেক্ষা করছিলেন। এরই মধ্যে তারা টোকিও মেট্রোপলিটন কর্তৃপক্ষ থেকে মেইলে পিডিএফ সার্টিফিকেট পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এর মাধ্যমে, আর কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। আমি এখন আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমি আমার এবং আমার পার্টনারের সম্পর্কে অন্য মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে পারবো।’
টোকিওর গভর্ণর ইউরিকো কোইকি জানিয়েছেন, ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সার্টিফিকেটের জন্য ১৩৭টি আবেদন পড়েছে।
তবে এমন স্বীকৃতি জাপানে প্রথম নয়। টোকিওর সিবউয়া জেলায় ২০১৫ সালেই সমকামি দম্পতিদের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তবে টোকিও মেট্রোপলিটন কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের ফলে ৬০ শতাংশেরও বেশি জাপানি নাগরিক সার্টিফিকেট ইস্যুর আওতায় আসবেন।
সমকামিদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রাইড হাউস টোকিওর প্রেসিডেন্ট গন মাৎসুনাকা বলেন, ‘এটি ভবিষ্যতের জন্য বড় এবং সবার জীবনের জন্যই ভালো পদক্ষেপ।’
নতুন এই স্বীকৃতি উদযাপন করতে টোকিওর শিনজুকু জেলার মেট্রোপলিটন ভবনকে রংধনুর রঙে আলোকিত করা হয়েছিল।
দেশটিতে সমকামিদের মতো যৌন সংখ্যালঘুদের সমানাধিকারের জন্য প্রচারাভিযানগুলো প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার দলের রক্ষণশীলদের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে।
শাসকদলের রক্ষণশীলরা যৌন সংখ্যালঘুদের আরও অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে এবং তাদের মতে এরা উৎপাদনশীল নয়।
হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন বলছে, সমলিঙ্গ বিয়ে বর্তমানে বিশ্বের ৩২টি দেশে বৈধ।
তবে এশীয় দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র তাইওয়ানেই সমকামী বিয়েকে বৈধতা দেয়া হয়েছে।



