কবিতাসাহিত্য

অধরা চন্দ্রাবিলাস

 

আয়শা সাথী


তাকে নিয়ে একসাথে – এক ধ্যানে
কখনো মাঘী পূর্ণিমায় জোৎস্না মেখে
পূর্ণচন্দ্র গাহন করা আমার হয়ে ওঠেনি!
তবে এটা নিয়ে আক্ষেপ বা অভিযোগ
কোনটাই আমায় ছোঁয়নি কখনো,
ভালোবাসায় সিক্ত চন্দ্রাবিলাস
সব চন্দ্রাবতীর কাব্যে লেখা হয় না…!

কোনো একদিন, কোনো এক পূর্ণিমায়
ডিঙি নৌকায় পিঠে পিঠ লাগিয়ে
চাঁদের সাথে নদীর আলিঙ্গন দেখবো,
সে রাতে হয়তো জোৎস্না ঈর্ষাকাতর চোখে
আমার প্রশান্তির স্নিগ্ধ স্বর্গালোকে
নিজের ঔজ্জ্বল্যের দৈন্যতা খুঁজে পাবে!

একদিন সশরীরে চাঁন্নি পশর গায়ে মেখে
হাতে হাতটি রেখে খালি পায়ে
জোৎস্নাস্নাত মেঠো পথটি ধরে হাঁটবো,
তাকে শুনাবো ‘তার’ স্বপ্নেবিভোর
এক পল্লীবালার না বলা স্বপ্ন গাঁথা।
গড়গড় করে আমি বলে যাব
পরম আবেগে স্থির পলকে সে শুনবে,
আর মুগ্ধতায় অবিরত স্নাত হবে!
মহাকাল বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে যাবে ,
তবুও মুগ্ধতার সে প্রহর শেষ হবে না!

আজও বিমুগ্ধতায় জোৎস্না গাহনে
দু’হাত ছড়িয়ে চোখমুদে অজান্তেই যখন
চাঁদনী বানে ভেসে যাবার প্রয়াসী হই,
তখন অনুভবে সে আষ্ঠেপৃষ্ঠে লেপটে;
অনুরণনে তার বিমূর্ত অস্তিত্বের ছোঁয়া
আমার আমিতে আপদমস্তক!

হয়ত, এমন চন্দ্রাবিলাসী অভিলাষ
বিধিলিপির নির্মমতায় কখনোই আসবে না,
তবুও আমি আশার ভেলায় বেসাতি গড়ি!
তার সাথে প্রেম করার ইচ্ছা ছিল না;
ইচ্ছে ছিলো তার প্রেমে পড়ার।
পড়েছি, একটু একটু করেই পড়েছি ;
অনেকটা প্রেমে পড়েছি….
একটু একটু করে তার
সবটার প্রেমে পড়েছিলাম!
আলাদা আছি; বহু দূরে আছি;
যোজন-যোজন দূরে। তাতে কি?
অধরা চন্দ্রপুকুরে তো আজও আছি পাশাপাশি !

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension