
আহম্মদ হোসেন বাবু
মক্কার আকাশে জেগে আছো তুমি
দু’চারটে তারার ফাঁকে জ্বলজ্বলে একফালি চাঁদ
গরম বাতাসে জলের ফোয়ারা ঘোরে অবিরাম।
আমি সারারাত জেগে-জেগে দেখেছি তোমাকে।
একি মনোহর! একি দৃষ্টির প্রশান্তি!
সাহারা মরুর বুকে এ কোন্ তৃষ্ণার জল তুমি!
আকণ্ঠ অমৃত করি পান, ঋদ্ধ হই, শুদ্ধ হই
ধুয়ে-মুছে যায় হৃদয়ের ক্ষত, শোক-তাপ যত
পাথরের বুকে পদচিহ্ন আঁকলে তুমি কত!
ফোটালে সুগন্ধিফুল পরানে আমার শত-শত!
আলোকবর্ষ দূর আজ কাছে এসে ধরা দিলো!
আলিঙ্গনবদ্ধ হয়ে তোমার দিদারে বক্ষ প্রসারিত হলো
দ্যোতিময়, জ্যোতিময় নূরের আগুনে দূরীভূত হলো অন্ধকার।
আমি সারারাত তোমার পদ্মকমল জড়িয়ে থেকেছি-
অপলক চোখে গড়িয়েছে জল, ভেসে গেছে বুক
তৃষিত বুকের জমিনে এখন সবুজের সমারোহ।
তোমার সান্নিধ্যে, আত্মার মিলনে রোমাঞ্চিত হিয়া।
” ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম” ভোরের আজান ডাক দিয়ে যায়
উত্তমকে নিয়েই বিনিদ্র রজনী আছি বসে…
মোয়াজ্জিন, আমাকে নতুন নামে ডাকো, যেভাবে—
সূর্য ডাকে, তারা ডাকে, ভোরের সকাল ডাকে
জমজমের পানি ডাকে, সাফা-মারওয়া ডাকে
মা হাজরার ব্যথাতুর দৃষ্টি ডাকে
তূর পাহাড়ের চূড়া ডাকে, ডাকে জাবালে রহমত, ডাকে জাবালে নূর..
আমি সকলের ডাকে সাড়া দিয়ে তোমার আঁখিতে মিশিয়েছি আঁখি।
আমার সর্বস্ব তুমি, কেন্দ্রবিন্দু তুমি, তুমি আলোরধারা
তোমার অসীমে পরান আমার, পাগলপারা মুক্তধারা
মোয়াজ্জিন, দয়া করে আমাকে নতুন নামে ডাকো।



