আন্তর্জাতিক

ইরানে পরকীয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়ায় মৃত্যুদণ্ড

পরকীয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক প্রেমিক যুগলকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ আদালত। দীর্ঘ ১০ মাসের তদন্ত ও আদালতের অধিবেশন শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনা বিবাহ বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় দেন বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম শার্ঘ ডেইলির বরাত দিয়ে আরব নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

শার্ঘ জানিয়েছে, গোপন সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার মেয়সাম (২৭) ও সারাহকে (৩৩) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মেয়সামের স্ত্রী মরিয়ম তাদের বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ দায়ের করার পর ওই যুগলকে গ্রেফতার করা হয়।
ওই যুগল আদালতের অধিবেশনে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে শার্ঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে মেয়সামের স্ত্রী মরিয়ম তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করলে আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করেন।

সারাহ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে তার বিয়ে হয়। তার চার বছরের একটি ছেলেও রয়েছে। কয়েকমাস আগে মেয়সামের সঙ্গে সারাহর পরিচয় হয়। সারাহর তাকে ভালো লাগে। গ্রেফতার হওয়ার আগের রাতে সারাহ মেয়সামের ফ্ল্যাটে যান। সেখান থেকে পরদিন সকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে মেয়সামের স্ত্রী জানান, আমার সন্দেহ হচ্ছিল যে আমার স্বামী অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। তবে কোনো প্রমাণ ছিল না। শেষমেষ আমি তাদের নোংরা গোপন সম্পর্কের প্রমাণ হাতে পাই।

মরিয়ম অবশ্য পরবর্তীতে তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারও করেছিলেন। অভিযোগ প্রত্যাহারের ব্যাপারে মরিয়ম জানিয়েছিলেন, ছয় মাস ধরে আমার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। তাই হয়তো তিনি সারাহর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এই কারণে আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।

কিন্তু মরিয়মের বাবা সারাহ ও মেয়সামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।

ইরানের ইসলামী আইন অনুযায়ী ব্যভিচারের শাস্তি পাথর ছুঁড়ে মারা। তবে এই শাস্তি দেওয়ার আগে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension