
উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি যুবরাজ পাকিস্তানে
রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দু’দিনের সফরে শনিবার পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা ছিল সৌদি এই যুবরাজের। কিন্তু দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রোববার থেকে সৌদি যুবরাজের পাকিস্তান সফর শুরু হবে।
এরপরে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা নিয়ে যখন ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লি এবং পাক সীমান্তে ইরানি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা নিয়ে যখন তেহরান ইসলামবাদকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তখন আজ রোববার পাকিস্তান সফরে আসছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান।
যুবরাজের পাকিস্তান সফর পিছিয়ে দেয়ার কারণ সম্পর্কে জানায়নি সৌদি আরব। তবে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এখনো আগের মতোই রয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
সৌদি যুবরাজের এই সফরের সঙ্গী হিসেবে রাজপরিবারের সদস্য, মন্ত্রী, ব্যবসায়ীসহ উচ্চ-প্রতিনিধি দল থাকবেন। ২০১৭ সালে সৌদির যুবরাজ হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথম পাকিস্তান সফর করছেন বিন সালমান। তার সফর ঘিরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
তবে এক বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ৪০ সিআরপিএফ সদস্যের প্রাণহানির পর পাকিস্তান সফর পিছিয়ে দেয়ার বিবৃতি প্রকাশ করেছে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে কাশ্মীরের ওই হামলার ঘটনায় কড়া নিন্দা জানায় সৌদি।
পাকিস্তান দিয়েই দক্ষিণ এশিয়া ও চীনে কয়েকদিনের সফর শুরু করছেন বিন সালমান। সফরের অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া সফরের কথাও রয়েছে তার।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, কাশ্মীরের ঘটনা নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা সৌদি যুবরাজের এবারের সফরকে কালোছায়ায় ঢেকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় ভারতীয় আধা-সামরিক বাহিনীর ৪৯ সদস্য নিহত হয়। এ ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে আসছে নয়াদিল্লি। যদিও ইসলামাবাদ সে অভিযোগ তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, কাশ্মীর হামলার কয়েক দিন আগে পাক সীমান্তে ইরানি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি বহরে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় অন্তত ২৭ নিরাপক্ষী নিহত হয়।
এ ঘটনায় পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, এর জন্য করুন পরিণতি ভোগ করতে হবে ইসলামাবাদকে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ইরান। সুতরাং সৌদি যুবরাজের সফরের আগে ইরানি বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখছে না তেহরান।
ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ২০১৫ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাকিস্তান সফরের পর সৌদি যুবরাজের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের ১০০০ কোটি ডলারের চুক্তি হতে পারে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই ইমরান খান দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তুলতে রিয়াদের দারস্থ হন। সৌদি আরবও তাকে নিরাশ করেনি। ওই সময়ই ৬০০ কোটি ডলার ঋণ দেয় পাকিস্তানকে। যা ইমরান খান তথা ইসলামাবাদকে খানিকটা স্বস্তি দেয়।
খবরে বলা হচ্ছে, সৌদি যুবরাজের সফর উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান। রাজধানী ইসলামাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এমনকি যুবরাজের বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের আগে থেকে ওই আকাশসীমা অন্য সব বিমানের জন্য বন্ধ রাখা হবে বলে জানা গেছে। যুবরাজকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়ারও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সেইসঙ্গে ইমরান খান ক্ষমতায় আসার পর সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমানই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রথম অতিথি হতে যাচ্ছেন।
সফরে প্রধানমন্ত্রী ইমরান ও পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর প্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।



