
ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গিকারে নিউইয়র্কে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রাণবন্ত আড্ডা
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: প্রিয় মাতৃভ’মির সার্বিক কল্যাণের জন্যে প্রবাসের মিডিয়া গঠনমূলক সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখবে। একইসাথে প্রবাসীদের অধিকার-মর্যাদা সুরক্ষার প্রশ্নেও পেশাগত ঐক্য অটুট রাখার সংকল্প ব্যক্ত করা হলো নিউইয়র্কে দেশ ও প্রবাসের মিডিয়া কর্মীদের প্রাণবন্ত এক আড্ডায়।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গি গণমাধ্যম কর্মীগণের সম্মানে ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে তিতাস পার্টি হলে ‘আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’ মনোজ্ঞ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান চলাকালে সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রিয় মাতৃভ’মিতে প্রবাসীদের বিনিয়োগের আগ্রহ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে কতিপয় সুপারিশ উপস্থাপন করেন বৃটিশ-বাংলাদেশী এমপি সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছি পৃথক একটি কমিশন গঠনের, যারা শুধুমাত্র প্রবাসীদের সমস্যা এবং বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে কাজ করবে। এ দাবি আদায়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সহায়তা কামনা করেন জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিম উদ্দিন।
প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসারের সভাপতিত্বে এ আড্ডা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম এবং যুগ্ম সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ। সম্মানীত অতিথি ছিলেন লেখক-কলামিস্ট ফকির ইলিয়াস, বিশেষ সম্মানীত অতিথি ছিলেন পিপল এন টেকের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ। প্রধান বক্তা ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া।
ফকির ইলিয়াস বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্তদের ক্রীড়নক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এ ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীদেরকেও সজাগ থাকতে হবে। এস কে সিনহার মদদদাতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে দেশ ও প্রবাসের গণমাধ্যমকে।
উদ্যমী বাংলাদেশীদের মার্কিন আইটি সেক্টরে উচ্চ বেতনের চাকরি পাবার ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালনকারি ইন্সটিটিউট ‘পিপল এন টেক’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ বলেন, ‘গত দেড় দশকে ৫ সহ¯্রাধিক বাংলাদেশীকে প্রয়োজনীয় কোর্স প্রদানের পর উচ্চ বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করেছি। বাংলাদেশের উচ্চতর ডিগ্রি সত্বেও যারা অডজবে জীবিকার বিকল্প দেখছিলেন না, তারা এখন আমেরিকান স্বপ্নের পথে ধাবিত হচ্ছেন।’ ‘শুধু তাই নয়, সম্প্রতি এক মিলিয়ন ডলারের স্কলারশিপ প্রদান করা হয়েছে আইটি সেক্টরে চাকরির উপযোগী কোর্স প্রদানের। ২৮২ জন বাংলাদেশী সে সুযোগ পেয়েছেন’-উল্লেখ করেন ইঞ্জিনিয়ার হানিপ।
বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, ‘মিডিয়া হচ্ছে সমাজের বিবেক। রাষ্ট্রকে পথনির্দেশনার ক্ষেত্রেও নিরন্তরভাবে সচেষ্ট রয়েছে। প্রবাসের মিডিয়াগুলোর ভূমিকা অপরিসীম কমিউনিটিকে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্যে। চলমান বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে প্রবাসীদের সমর্থন সুসংহত করতে প্রবাসের গণমাধ্যম কর্মীরা কাজ করছেন। সামনের নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রার্থীদেরকে বিজয়ের ব্যাপারেও আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সোচ্চার থাকবে বলে আশা করছি।’
সংক্ষিপ্ত এ আড্ডায় আরো ছিলেন এশিয়া টিভির লাবণ্য ভ’ইয়া, প্রেসক্লাবের সাদস্যিক সম্পাদক পপি চৌধুরী, প্রেসক্লাবের নির্বাচন কমিশনার আকবর হায়দার কিরণ এবং রাশেদ আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের বিশেষ সংবাদদাতা পান্থ রহমান, একুশে টিভির হেড অব ইনপুট ড. অখিল পোদ্দার, গাজী টিভির সিনিয়র রিপোর্টার সাজু রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের রুহুল আমিন রাসেল এবং কাজী শাহেদ, নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভির শাহ আলী জয় এবং ফয়সাল মিল্লাত জামি, বাংলা ভিশনের সাঞ্জিব আহমেদ, এটিএন বাংলার নিয়াজ জামান সজীব এবং আকাশ দে, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের বিশেষ সংবাদদাতা রফিউল ইসলাম টুটুল, মীম টিভির সুজন আহমেদ, কবি তুলি ইলিয়াস, মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের হাজী জাফরউল্লাহ, বাংলাদেশ সোসাইটির সেক্রেটারি রুহুল আমিন সিদ্দিকী, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী আব্দুর রহমান, জেবিবিএর নেতা ফাহাদ সোলায়মান, বিজনেস ফোরামের নেতা সেলিম উদ্দিন, যুবলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন, প্রেসক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট মীর ই শিবলী, কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেম, নির্বাহী সদস্য নিহার সিদ্দিকী, আজিমউদ্দিন অভি এবং কানু দত্ত, সদস্য মিজানুর রহমান, শাহাদৎ হোসেন সবুজ, আনিসুর কবীর জাসির, লিটু রহমান, তপন চৌধুরী, আমজাদ হোসেন প্রমুখ।
গভীর রাতে প্রাণবন্ত এ আড্ডার সমাপ্তিতে পেশাগত দায়িত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানানো হয়। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ৭৩তম অধিবেশনের সংবাদ কভার করতে অর্ধশত সাংবাদিক এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে।
এনআরবি নিউজ





