যুক্তরাষ্ট্র

ক্ষমতায় যাওয়ার পর বাইডেন অবৈধ অর্থ আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন

ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামী ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন। ক্ষমতায় যাওয়ার পর বাইডেন অগ্রাধিকারভিত্তিতে দেশে-বিদেশে অবৈধ উপায়ে অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যুক্ত রাজনীতিক ও সরকারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন, এমনটা জানিয়েছে তার প্রশাসন।

বাইডেনের এই অগ্রাধিকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো বৈশ্বিক অর্থ আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি। তার এমন উদ্যোগ ইতিমধ্যে প্রশংসা পেলেও এর মধ্যে কোনো রাজনীতি রয়েছে কি-না তা খতিয়ে দেখতে চান কিছু বিশ্লেষক।’

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বাইডেনকে দুর্নীতি ও কালো টাকার মালিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দেখা গিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়িয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময়ও তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলেছেন। দুই বছর আগে বাইডেন ও তার সাবেক উপদেষ্টা মাইকেল কার্পেন্টার পলিটিকোতে এক সতর্কবাণীতে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অজানা উৎস থেকে আসা বিদেশি অর্থ প্রভাব বিস্তার করছে। বাইডেন লেখেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে আমি কাজ করব। অবৈধ অর্থ এবং আয়কর জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত সম্পদের হদিস অনুসন্ধান এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিতে কাজ করবো। যেসব নেতা তাদের জনগণের কাছ থেকে বেনামি কোম্পানি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাইডেন যাকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সেই জ্যাক সুলিভান পলিটিকোকে জানান, বাইডেন প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্যই হবে তাদের মিত্ররা যাতে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। কর্তৃত্ববাদী পুঁজিবাদী সরকারগুলোকে অর্থনীতির দিক দিয়ে আরও স্বচ্ছতায় নিয়ে আসাও হবে এই প্রশাসনের লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের একজন অন্তর্বর্তীকালীন কর্মকর্তা বলেন, ‘দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ ঠেকাতে বাইডেনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিই তাকে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ভোট পেতে সহায়তা করেছে।’

পেন বাইডেন সেন্টার ফর ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড গ্লোবাল এনগেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কার্পেন্টার ফরেন পলিসিকে বলেন, ‘পরবর্তী প্রশাসনের জন্য কালো টাকার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এটা হবে ওই প্রশাসনের জন্য বড় এজেন্ডা।’ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাইডেন প্রশাসন কালো টাকার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ কি শুধু খারাপের বিরুদ্ধে ভালোর লড়াই হিসেবে দেখছে নাকি এর মধ্যে কোনো রাজনীতি আছে। অতীতে অন্য অনেক দেশেই নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীকেও এমন প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা গিয়েছিল। ক্ষমতায় গিয়ে তারা কালো টাকার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে পার্টি তহবিল পূরণ ও ক্ষমতার মেরুকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছিলেন। এতে জনগণের কোনো কল্যাণ হয়নি। কিছু ধনীর কালো টাকা ঘুরে-ফিরে অন্য কিছু ধনীর পকেটে চলে যায়।

এক পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বে বছরে এক থেকে আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি হয়। আর এই দুর্নীতির অধিকাংশ অর্থই আসে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে। এই বিশাল অঙ্কের সামান্য অর্থও যদি একটি দেশ তার উন্নয়নের পেছনে ব্যয় করে, তাহলে সেই দেশের দারিদ্র্য অল্প দিনেই শেষ হওয়ার কথা।❐

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension