
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের দাবি করেছেন, গলায় ফাঁস লাগিয়ে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জাপাকে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। চলে আসতে বারবার চেষ্টা করেছি। নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিতে সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন সংস্থা তা করতে দেয়নি।
রোববার দলের বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ২০০৬ সাল থেকে প্রায় সব বিষয়ে আওয়ামী লীগের পাশে থাকলেও জাপা চেয়ারম্যান ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দলটির সমালোচনায় মুখর হন সংবাদ সম্মেলনে। ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করা পঞ্চদশ সংশোধনীর পক্ষে ২০১০ সালে সংসদে ভোট দিলেও এবার সেই সংশোধনী বাতিলের দাবি জানিয়েছে জাপা। জি এম কাদের বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী বহাল রেখে সংবিধান সংশোধন অসম্ভব। হয় পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করতে হবে, নয়তো নতুন সংবিধান রচনা করতে হবে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন দাবি করে জি এম কাদের বলেছেন, প্রতিদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে বক্তৃতা ও বিবৃতি দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের হত্যা হামলার নিন্দা জানিয়েছি। রংপুরসহ সারাদেশে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে। অনেকে জেলে গিয়েছেন। আহত হয়েছেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থনের কথা জানান জি এম কাদের। তিনি বলেন, তারা অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। শুধু নির্বাচন সুষ্ঠু হলেই হবে না, পরে নির্বাচিতরা যেন গণতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে জাপার মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



