
নিউ ইয়র্কে ইমন চক্রবর্তীর সুর আর সঙ্গীতে এক অনবদ্য সন্ধ্যা
রূপসী বাংলা নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: এ বছর নিউ ইয়র্কে শীতের আগমনী খবরটি এল সুর আর সঙ্গীতে ভর করে। আর খবরটি যার কন্থেভর করে এল, তিনি ভারতের পশ্চিম বাংলার প্রখ্যাত ধ্রুপদী সঙ্গীত শিল্পী ইমন চক্রবর্তী।
গেল ৯ অক্টোবর (রোববার) রাতে এই যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক শহর নিউ ইয়র্কের উডসাইড অঞ্চলে কুইন্স প্যালেস মিলনায়তনে আয়োজিত হয়ে গেল ইমন চক্রবর্তীর একক সঙ্গীতানুষ্ঠান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সঙ্গীতানুষ্ঠানটিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সমাজের জন্য সুস্থ এবং শুদ্ধ সঙ্গীতের ‘মাইলফলক’ হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

সঙ্গীত কেবলই আনন্দের বিষয় নয়, একইসঙ্গে উপলব্ধি ও মানবিক বোধের স্তর কার কতটুকু আছে বা নেই-এটাও যেন আত্মজিজ্ঞাসায় জেনে নেয়ার ব্যাপার। গানের সুর, কণ্ঠ, কথা, বিষয় এবং গায়কী, সর্বোপরি কেন এমন গান- এমনি নানান প্রশ্নের সম্মুখীন কি হই নি আমরা?
অনুষ্ঠানে ইমন চক্রবর্তীও এমনি ধারার কিছু প্রশ্ন আপন বাচনে উত্থাপন করেছেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মনে। ইমনের অসাধারণ এবং অতুলনীয় সঙ্গীত শুধু ‘অমিত সুধা’ই ঢেলে দেয় নি, দর্শক-শ্রোতার অনুভবের অতলে একরাশ আবিষ্টতাও ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। গানে গানে অন্যরকম একটি রাত উপহার দিয়েছেন এবং সঙ্গীতের আলাপচারিতায় মানুষের মনুষ্যত্ববোধ ও মূল্যবোধের কথাও বলেছেন নির্মোহভাবে। সঙ্গীত প্রিয়দের কাছে অনবদ্য হয়ে উঠেছিল সেদিনের সন্ধ্যাটি।
চমৎকার এই অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন শো-টাইম মিউজিক এন্ড প্লে’র কর্ণধার আলমগীর খান আলম। উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা এত দারুণ একটি অনুষ্ঠান উপহার দেয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে ইমন চক্রবর্তী রবীন্দ্র সঙ্গীত দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করেন। এরপর নানা বিষয়-বৈচিত্রের নানান গান গেয়ে শোনান। লালন, বাউল, আধুনিক, চলচ্চিত্র, গজল, পাহাড়ি গানের সঙ্গে ক’টি হিন্দি গানও করেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে বিরতিতে শুনিয়েছেন আপন অভিজ্ঞতার কথা, ছিল কিছু গানের অন্তর্নিহিত কথা।
ইমন জানান তার পূর্বপুরুষ বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার। আর তার প্রথম আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের শুরুটি হয়েছিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরে। বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার টানের কথা বলেন তিনি। এক পর্যায়ে নিজেকে বাংলাদেশী বলেও দাবি করেন।
বাংলাদেশের লোক ও বাউল গান শচীন দেব বর্মণ যে, ভারতের সঙ্গীতে তুলে অন্যরূপ দিয়েছেন, গানে গানে ও কথাও বলেন ইমন চক্রবর্তী। মিসিসিপি নদীকে নিয়ে গাওয়া পল হারপারের গাওয়া গান-ও ওল্ড ম্যান এবং পরবর্তীতে ড. ভূপেন হাজারিকার গাওয়া ‘বিস্তীর্ণ দু’পাড়ের অসংখ্য মানুষের হাহাকার নিয়ে’ গানটির মর্মকথা বলেন। এই গান সমসাময়িক ঘটনার জন্যও বিশেষ, তা উল্লেখ করে বাংলা, ইংরেজি হিন্দি ভাষায় পরিবেশন করেন। গানটি পরিবেশনের সময় শ্রোতারা মুগ্ধতায় কণ্ঠ মেলান।
টানা দু’ঘন্টার অনুষ্ঠানে তাঁর শেষ গান ছিল-প্রাক্তর ছবি গান ‘তুমি যাকে ভালবাসো’। এই গানটি শেষ করার পর ইমন চক্রবর্তী সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, যে কোনও সম্পর্কে চিড় ধরলে, জোরেসোরেই তা বলে দেবেন। নতুন করে আবার স্টার্ট করবেন। তবে আমি চাই, কাউকে যেন এমন কথা বলতে না হয়।
অনুষ্ঠানে ইমন চক্রবর্তীর সঙ্গে গীটার বাজিয়েছেন সৌমেন মুখার্জ্জী ও বিভাস চক্রবর্তী, তবলায় সঙ্গত করেছেন রাম কৃষ্ণ দাস, ড্রাম বাজিয়েছেন রক্তিম চক্রবর্তী এবং কো-বোর্ডে ছিলেন অয়ন মুখার্জ্জী।
অনুষ্ঠানে ইমন চক্রবর্তীকে ‘শো-টাইম মিউজিক এন্ড প্লে’র পক্ষ থেকে ক্রেষ্ট উপহার দেন আলমগীর খান আলম, রায়হান জামান এবং রাহাত মোস্তাফিজ।
ছবি








