
বাবু হক
ঘরের দরোজায় কড়া নারে তপ্ত বাতাস
রোদের চোখ রাঙানি দেখতে হয়
শ্রমের প্রতিটি পরতে পরতে।
প্রায় বধির কান
শোনে না ধর্মের ললিত বাণী
হাতের বজ্রমুষ্ঠি শ্লোগানের তালে তালে
ধ্বনি প্রতিধ্বনির সাথে একাত্ম হয়ে
নাচে না উর্ধ্বপানে।
অনিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অচেতন অবহেলায়
নোংরারস্তুপ গড়ে তোলে পাহাড়ের আদল
ইদানিং দুইপেক বেশি মারতে হয়
আর্থিক হতাশায়; কোথা থেকে তার
অর্থ যোগাড় হয় জানেনা রামলাল
ভূতও থাকেনা তার ধারেকাছে। তবে
গোপাল সরকার আছে তার মনোনীত বাবা!
ছেলেটার মাথা খেয়েছে মাস্টার সাব
ও নাকি পড়শোনায় বেশ ভালো
কাজের চেয়ে পড়ায় আগ্রহ তার।
বউটা বুড়িয়ে গেছে
মেয়েটা যুবতী। পরিষদের সচিব
তার রূপের প্রসংশায় বিগলিত।
মাঝে মধ্যে রামলালের সাথে
হ্যাণ্ডশেক করেন তিনি
কিছু একটা গুজে দেন সেই ফাঁকে।
রামলাল কালশিটে দাঁত বের করে হাসে
আবার চোখদুটো জবাফুলের মতো
লাল হয়ে ওঠে তার
যতটা না লাল হয় মালটানার পরও!
ওইদিকে অকাল বিধবা ঝিমলি
কী যেন বলতে চায় আঁড়েঠাড়ে!
রামলাল বিশ্বাস করেনা কাউকে
শুধুমাত্র বোতল তার বিশ্বস্ত বন্ধু!
বোতলের উপর ভরসা করে
ভুলে থাকতে চায় সবকিছু।
ফল হয় উলটো স্মৃতিসম্ভার জেগে ওঠে
আবেগ উপড়ে ফেলে সমস্ত বাধা।
আরো দুইপেক বেশি মেরে রাস্তায় নামে
রামলাল নিয়ন্ত্রণহীন শরীর নিয়ে। গেয়ে ওঠে–
‘ইচিক দানা বিচিক দানা দানে উপর…’



