ভারত

মহামারী চলে যাচ্ছে ভেবে ভারতে কেউ ভ্যাকসিন নিতে উৎসাহী নয়

মহামারি চলে যাচ্ছে মনে করে ভারতের মানুষ ভ্যাকসিন নিতে উৎসাহী হচ্ছেন না। এ কারণে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচিও প্রত্যাশা মতো অগ্রসর হচ্ছে না।

ভ্যাকসিন নিলে কোনও সমস্যা হয় কিনা— এমন ভয় ও আতঙ্ক এবং নিরাপত্তা উদ্বেগে এক-তৃতীয়াংশ মানুষের ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট না নেওয়ার কারণ। এছাড়া টেকনিক্যাল ত্রুটি-বিচ্যুতি, সর্বোপরি মহামারি চলে যাচ্ছে-এমন ধারণাও ভ্যাকসিন নিতে অনীহার জন্য দায়ী। 

ভারত এক সপ্তাহ আগে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করে। প্রাথমিকভাবে দৈনিক তিন লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। সে অনুযায়ী, জুলাই মাসের মধ্যে ৩০ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা।

কিন্তু প্রথম সাতদিনে দৈনিক দুই লাখ করে মোট ১৪ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়েছে। নয়াদিল্লির কাছের গ্রেটার নয়ডায় শারদা হসপিটালেভ্যাকসিন নিতে আসা ১৭ বছর বয়সি ফার্মেসির শিক্ষার্থী খুশি ডিঙ্গরা ভয়ে ঘেমে গেছে ও তার বন্ধুকে জড়িয়ে ধরেছে। তার বক্তব্য ‘আমি খুবই ভীত। আমি সুঁইকে ঘৃণা করি এবং ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমার বাবাও খুবই উদ্বিগ্ন।

তিনি বার বার ফোন করে জানতে চাচ্ছেন আমি ঠিক আছি কি না।’ শেষ পর্যন্ত অবশ্য বয়স ১৮ না হওয়ায় তাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় নি। গ্রেটার নয়ডার ২১ বছর বয়সি নার্সিংয়ের শিক্ষার্থী সাক্ষী শর্মা বলেন, ‘আমার ব্যাচে ৮০ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে মাত্র দুজন ভ্যাকসিন নেওয়ার পথে অগ্রসর হয়েছে।

আমার বন্ধুরা বলছে, ‘ভ্যাকসিনের অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে। এমনকি তুমি প্যারালাইজডও হয়ে যেতে পার।’ ভারতে করোনার দুটি ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হচ্ছে। একটি হচ্ছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ভারতীয় সংস্করণ- কোভিশিল্ড। আরেকটি হচ্ছে ভারত বায়োটেকের উদ্ভাবিত কোভ্যাক্সিন।

কোভিশিল্ড তৃতীয়পর্যায়ে মানুষের মধ্যে ট্রায়াল হয়ে আসার কারণে নিরাপদ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটির প্রয়োগ হচ্ছে।

অন্যদিকে কোভ্যাক্সিন এখনো মানবদেহে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল সম্পন্ন করেনি। ফলে মানুষ এই ভ্যাকসিন নিতে বেশি ভয় পাচ্ছে। কিন্তু সরকার জোর দিয়ে বলছে ‘এটি ১১০ ভাগ নিরাপদ’।

নার্সিংয়ের শিক্ষার্থী আলিশা খান বলেন, ‘কোভ্যাক্সিন দ্রুততার সঙ্গে অনুমোদন দেওয়ায় ভ্যাকসিন নিতে মানুষ ইতস্তত করছে।’ পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য-প্রধান অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘ভ্যাকসিন প্রদানের হার মাত্র ৭০ শতাংশ।❐

এএফপি

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension