আন্তর্জাতিক

মালয়েশিয়ায় রান্নার তেলের দাম বাড়ছে

মালয়েশিয়ায় রান্নার তেলের দাম বাড়ছে। রান্নার তেলের দামের একটি নতুন স্পাইক উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা বলছেন, শীর্ষ উৎপাদক ইন্দোনেশিয়ায় চালান বিধিনিষেধ এবং মালয়েশিয়ার বাগানে দীর্ঘস্থায়ী শ্রমিক ঘাটতির কারণে এ দাম বাড়ছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেশটির বিভিন্ন সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, খাবারের তেল প্রতি লিটার (প্যাকেট) বিক্রি হয়েছে ২.৫০ রিঙ্গিত, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রতি লিটার, ৫৩ টাকা ৭৫ পয়সা। প্রতি লিটার (বোতল) বিক্রি হয়েছে ৬.৭০ রিঙ্গিত এবং (৫ লিটার বোতল) বিক্রি হয়েছে ২৯.৭০ রিঙ্গিত।

অপরদিকে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য বেড়েছে ৫ শতাংশ। বিজনেস রেকর্ডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে সরবরাহের জন্য বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ অনুসারে পাম অয়েলের বাজার আদর্শ ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি টন ৬ হাজার ৬০২ রিঙ্গিত (১ হাজার ৫৮১ ডলার ৩২ সেন্ট)।

চলতি বছর শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পাম অয়েল উৎপাদনের হার বেড়েছে ৩ শতাংশ। তবে বৈশ্বিক চাহিদা মেটানোর জন্য এটি যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মুম্বাইভিত্তিক ভোজ্যতেলের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সানবিন গ্রুপের রিসার্চ হেড অনিলকুমার বাগানি বলেন, দক্ষিণ আমেরিকা ও কানাডায় সয়াবিন এবং র্যাপসিডের উৎপাদন কমায় অয়েলসিডের বাজার বেশ প্রতিকূল পরিস্থিতি অতিবাহিত করছে। এ সময় ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের ফলে সূর্যমুখী তেলের রফতানি অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এ সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সূর্যমুখী তেলের সরবরাহ প্রায় দুই লাখ টন কমেছে। ফলে অঞ্চলটি ভোজ্যতেলের সংকটে ভুগছে। এদিকে ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ মালয়েশিয়ায় পাম অয়েল মজুদের পরিমাণ জানুয়ারির তুলনায় কমেছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। এ মাসে দেশটিতে পাম অয়েল মজুদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার টন, যা ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

৯ মার্চ বুধবার ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচারের মাসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী সরবরাহের জন্য নিম্ন ভবিষ্যদ্বাণীতে এটি ভালোভাবে প্রতিফলিত হতে পারে। অধিক ব্যয়বহুল উদ্ভিজ্জ তেল এবং দুগ্ধজাত খাবারের কারণে, জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্য খরচ রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রান্নার তেলের দামের সাম্প্রতিকতম বৃদ্ধি মাসিক খাদ্য সূচককে রেকর্ডে ঠেলে দিতে পারে। উচ্চ শক্তির বাজারের কারণে সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যের দামও বাড়িয়ে দিতে পারে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension