
মিয়ানমারে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড-যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মিয়ানমারের জান্তা চারজন সামরিক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যাঁরা গত মাসে জাতিগত সংখ্যালঘু যোদ্ধাদের কাছে চীনা সীমান্তের একটি কৌশলগত শহরের দখল আত্মসমর্পণের তত্ত্বাবধান করেছিলেন। পাশাপাশি তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একাধিক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস যুদ্ধের পর শত শত সেনা তাঁদের অস্ত্র ফেলে দেয় এবং শান রাজ্যের লাউকাই শহরটিকে তথাকথিত থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের কাছে হস্তান্তর করে।
এ যুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে অনেক অঞ্চল হারাতে হয়েছে। আত্মসমর্পণের পর জোটের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা ও তাঁদের সেনাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। আত্মসমর্পণটি ছিল কয়েক দশকের মধ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় একক ক্ষতির একটি। এতে জান্তা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সামরিক সূত্র এএফপিকে বলেছে, ‘লাউকাই শহরের কমান্ডারসহ তিনজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’ অন্য একটি সামরিক সূত্রও শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ ছাড়া দুটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, লাউকাইতে আত্মসমর্পণে ভূমিকা রাখার জন্য অন্য তিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), আরাকান আর্মি (এএ) এবং তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) সমন্বয়ে গঠিত থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের দখলকৃত বৃহত্তম শহর লাউকাই।
জোটটি অক্টোবরের শেষের দিকে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের একটি অংশজুড়ে আশ্চর্যজনক আক্রমণ শুরু করে এবং চীনের সঙ্গে সীমান্তে বেশ কয়েকটি শহর ও লাভজনক বাণিজ্যিক কেন্দ্র দখল করেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলের পর থেকে বিক্ষুব্ধ জান্তা তাদের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।



