
মিয়ানমারে দেশ ছাড়ার হিড়িক, পাসপোর্ট অফিসের বাইরে ২ জনের মৃত্যু
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সামরিক পরিষেবা আইন থেকে বাঁচতে দেশটির হাজার হাজার মানুষ দেশ ছাড়তে চাইছেন। সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়েছে, বাসিন্দারা পাসপোর্ট ও ভিসার জন্য সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ভিড় করছে। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার দেশটির এক পাসপোর্ট অফিসের বাইরে পিষ্ট হয়ে দুজন নিহত হন। একজন উদ্ধারকর্মীর বরাত দিয়ে এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমও নিহতের খবর দিয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই উদ্ধারকর্মী জানান, ৫২ এবং ৩৯ বছর বয়সী দুই নারী স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে মান্দালয় শহরের পাসপোর্ট অফিসে লাইনে দাঁড়ানোর জন্য কয়েক শ লোকের ভিড়ের মধ্যে মারা গেছেন। ভিড়ের কাছে একটি খাদ ছিল। তাঁরা খাদে পড়ে যাযন এবং অক্সিজেনের অভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া অন্য এক নারী সামান্য আহত হয়েছেন। তাঁরা তিনজনই পাসপোর্টের আবেদন করতে আসা মানুষদের কাছে টোকেন বিক্রি করছিলেন।
এএফপির তথ্য অনুসারে, একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলের তিন বছর পর দেশটির সেনাবাহিনী তার শাসনের ব্যাপক সশস্ত্র বিরোধিতাকে দমনে লড়াই করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তারা জাতিগত সংখ্যালঘু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোটের কাছে চীনের লাভজনক বাণিজ্য রুটের অঞ্চল ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।
অন্যদিকে এই মাসের শুরুর দিকে জান্তা বলেছে, তারা একটি আইন প্রয়োগ করবে, যার ফলে ১৮-৩৫ বছর বয়সী পুরুষ এবং ১৮-২৭ বছর বয়সী নারীদের কমপক্ষে দুই বছরের জন্য সামরিক বাহিনীতে কাজ করতে হবে। আইনটি পূর্ববর্তী জান্তা তৈরি করলেও কখনো সেটি ব্যবহার করা হয়নি। এটি কিভাবে প্রয়োগ করা হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এ ছাড়া যাদেরকে সামরিক পরিষেবার জন্য ডাকা হবে তাঁরা কিভাবে কাজ করবেন সে সম্পর্কেও কোনো বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়নি। তবে অনেকেই এ বিষয়ে আগ্রহী নন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে স্থানীয় গণমাধ্যমের ছবিতে মান্দালেতে পাসপোর্ট অফিসের বাইরে কয়েক শ লোককে সারিবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে। বাণিজ্যিক কেন্দ্র ইয়াঙ্গুনে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী গত সপ্তাহে থাই দূতাবাসের বাইরে সারিবদ্ধ হয়ে ভিসা চেয়েছিল মিয়ানমার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য।
শহরের পাসপোর্ট অফিসের কাছে বসবাসকারী মান্দালয়ের এক বাসিন্দার উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য ইরাবতি বলেছে, প্রায় পাঁচ হাজার লোক প্রতিদিন পাসপোর্টের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু মাত্র ২০০টি আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ঘোষণার আগে পাসপোর্টের আবেদনের সংখ্যার কোনো সীমা ছিল না।
একজন জান্তা মুখপাত্র গত সপ্তাহে বলেছিলেন, প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ সামরিক পরিষেবায় ডাকার জন্য যোগ্য হবে, যদিও সামরিক বাহিনীতে বছরে ৫০ হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
এর আগে জান্তা বলেছিল, সারা দেশে বিরোধীদের সঙ্গে লড়াই চলায় তারা সামরিক সমর্থিত মিলিশিয়াদের সশস্ত্র করার ব্যবস্থা নিচ্ছে।



