আঞ্চলিকপ্রধান খবরবাংলাদেশ

মুরাদনগরকাণ্ডে সামনে এলো নতুন ভিডিও, মামলা তুলে নিতে চান ভুক্তভোগী

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু গণমাধ্যম, সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কুমিল্লার মুরাদনগরের ধর্ষণকাণ্ড। এ নিয়ে পানি কম ঘোলা হচ্ছে না। সময়ের পরিক্রমায় নতুন করে নিয়েছে ঘটনার মোড়। এবার মামলা তুলে নিতে চান মুরাদনগরের ওই ভুক্তভোগী নারী। তিনি না বুঝেই এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা না বলেই মামলাটি করেছেন বলে জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আমি না বুঝেই ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছি। পরিবার ও এলাকার কারো সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই মামলা করে আমি এখন আমার স্বামীর চাপের মুখে আছি। স্বামী ও আমার পরিবারের লোকজন মামলা চালাতে অনীহা প্রকাশ করছে। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই। কারো বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা ভালো লাগে না। আমি মামলাটি তুলে নেব।’

এদিকে, মুরাদনগরের এ ঘটনায় নতুন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ‘তোদের বাপ আইছে’ নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মুহাম্মদ আলী সুমনের নেতৃত্বে রমজান, অনিক, আরিফসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ধর্ষণে অভিযুক্ত ফজর আলীকে পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করছে। বিবস্ত্র করে বেঁধে নির্যাতনের ফলে তার শরীর হাত ও মাথা থেকে রক্ত ঝরছে। অপরদিকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা সুমনের সহযোগী অনিক ওই নারীকে নিজ হাতে বিবস্ত্র করছে। নারীকে বিবস্ত্র করে দুজনকে একসঙ্গে করে হাত-পা বেঁধে ভিডিও ধারণ করছে।

‘আমি না বুঝেই ফজর আলীর বিরুদ্ধে মামলাটি করেছি। পরিবার ও এলাকার কারো সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই মামলা করে আমি এখন আমার স্বামীর চাপের মুখে আছি। স্বামী ও আমার পরিবারের লোকজন মামলা চালাতে অনীহা প্রকাশ করছে। আমি আমার সন্তানদের নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই। কারো বিরুদ্ধে মামলা মোকদ্দমা ভালো লাগে না। আমি মামলাটি তুলে নেব।’
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা বিষয়টিকে পরকীয়া হিসাবে দাবি করলেও ভুক্তভোগী নারী জানান, তার সঙ্গে ফজর আলীর আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় পুলিশ পৃথক দুটি মামলায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া খোকন বলেন, ‘ওই নারী ও ফজর আলীর মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। দুই মাস আগে ফজর আলীর ছোট ভাই শাহপরান ওই নারীর সঙ্গে তার ভাইয়ের পরকীয়া নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল। তাদের পরকীয়ার বিষয়টি আমাদের এলাকার সবাই জানে। এছাড়া ওই পরিবারের সঙ্গে ফজর আলীর আর্থিক লেনদেন রয়েছে। সেই সুবাদে ফজর আলী ওই বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতো।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সুমনই ঘটনার নেপথ্য কারিগর দাবি করে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঘটনাটিকে এত বড় করার নেপথ্যের কারিগর হচ্ছেন ছাত্রলীগ সভাপতি মুহাম্মদ আলী সুমন। তারা আগে থেকে ওঁৎপেতে থেকে দুজনকে ধরেছে। পরে পরিকল্পিতভাবে বিবস্ত্র ও নির্যাতন করে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করেছে।’

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে ওই চক্রটি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে এহেন কাজ করে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে বাহেরচর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ বলেন, ‘ফজর আলী একটা খারাপ লোক। এলাকায় বিভিন্ন নারীদের পেছনে ঘুরে ঘুরে অপকর্ম করাই তার কাজ। তার সঙ্গে ওই নারীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। এটা এলাকার সবাই জানে।’

স্থানীয় পেয়ারা বেগম বলেন, ফজর আলীর সঙ্গে ওই নারীর চার বছর যাবৎ পরকীয়া প্রেম চলছিল। তাকে হাতেনাতে ধরার জন্যই সেদিন রাতে ওঁৎপেতে বসেছিল সুমন, রমজান, অনিকসহ ১৫ থেকে ২০ জন।’

এদিকে সোমবার সকালে কথা হলে মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, ‘নতুন কোনো ভিডিও এখনো আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। আমরা মামলার অগ্রগতি নিয়ে কাজ করছি। সিনিয়র অফিসাররা মামলাটি অধিকতর তদন্তের কাজ তদারকি করছে। নতুন ভিডিও হাতে পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ভাইরালের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension