
যুক্তরাজ্যে ১০০ কোম্পানিতে সপ্তাহে ৪ কর্মদিবস চালু
যুক্তরাজ্যের ১০০ কোম্পানি স্থায়ীভাবে সপ্তাহে চার দিনের কর্মদিবস চালু করেছে। অর্থাৎ এখন থেকে তাদের কর্মীদের সাপ্তাহিক ছুটি ৩ দিন। এতে কর্মীদের বেতনের হেরফের হবে না, আগের মতোই তারা বেতন পাবেন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে মৌলিক পরিবর্তনের প্রচারণার জন্য এটি একটি মাইলফলক।
নতুন সাপ্তাহিক কর্মদিবস ঘোষণা করা এই ১০০ কোম্পানিতে কাজ করেন ২ হাজার ৬০০ জন। যুক্তরাজ্যের কর্মক্ষম জনসংখ্যার এটি খুবই ক্ষুদ্র অংশ। কিন্তু সপ্তাহে ৪ দিন কাজের প্রচারাভিযানের একটি গ্রুপ আশা করছে, বড় পরিবর্তনের এটি কেবল শুরু।
সপ্তাহে ৪ দিন কাজের সমর্থকরা বলছেন, ৪ দিনের কর্মদিবসে কোম্পানিগুলোর উৎপাদনশীলতা (৫ দিন কর্মদিবসের তুলনায়) আরও উন্নত হবে এবং শুরুর দিকে যারা এই নীতি অনুসরণ করবে তারা কর্মীদের ধরে রাখতে পারবে।
নতুন সাপ্তাহিক কর্মদিবস চালু করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অ্যাটম ব্যাংক ও গ্লোবাল মার্কেট কোম্পানি অ্যাউইন। দুটি প্রতিষ্ঠানেরই আলাদাভাবে যুক্তরাজ্যে ৪৫০ জন কর্মী রয়েছে।
আউইনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডাম রস বলেছেন, চার দিনের (কাজের দিন) সপ্তাহ গ্রহণ করা ছিল কোম্পানির ইতিহাসে সবচেয়ে রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলোর মধ্যে একটি।
তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছরে (সপ্তাহে ৪ কর্মদিবস অনুসরণ করার কারণে), আমরা শুধু কর্মচারীদের সুস্থতার ক্ষেত্রে একটি অসাধারণ উন্নতি দেখেছি তা কিন্তু নয়, একই সঙ্গে আমাদের গ্রাহক পরিষেবা এবং সম্পর্ক, কর্মীদের প্রতিভা বিকাশ এবং তাদের ধরে রাখাও সম্ভব হয়েছে।’
সেপ্টেম্বরেই দেশটিতে চালানো এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮৮ শতাংশ কোম্পানি তাদের সপ্তাহে ৪ দিনের কর্মদিবস ট্রায়ালে তাদের ব্যবসার জন্য ইতিবাচক ফল দিয়েছে। জরিপ করা প্রায় ৯৫ শতাংশ কোম্পানি বলছে, নতুন সাপ্তাহিক কর্মদিবসে তাদের উৎপাদনশীলতা একই ছিল বা উন্নত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ৪ দিনের সপ্তাহের প্রচারাভিযানের পরিচালক জো রাইল বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই যে এই দশকের শেষ নাগাদ বেতন কমানো ছাড়াই ৪ দিনের সপ্তাহ এই দেশে স্বাভাবিক কাজ করার উপায় হয়ে উঠবে। আমরা আগামী কয়েক বছরে আরও কোম্পানিকে সাইনআপ করানোর লক্ষ্য নিয়েছি।’
যেসব কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে সপ্তাহে ৪ দিনের কর্মদিবস গ্রহণ করেছে, তাদের বেশিরভাগই প্রযুক্তি, ইভেন্ট বা মার্কেটিং কোম্পানির মতো পরিষেবা খাত। তবে প্রচারাভিযানের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, কিছু উৎপাদন ও নির্মাণ কোম্পানিও সাইনআপ করেছে।



