আন্তর্জাতিক

রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

নিহত ১২, আহত ৩০৯; নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি—আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

হোসনেআরা চৌধুরী :
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতাহত হয়েছেন।

শনিবারের এই হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রেখে কয়েকটি ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দা

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস হামলার নিন্দা জানিয়ে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গও বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলাকে সংঘাতের গুরুতর বিস্তার হিসেবে উল্লেখ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাটিকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এ ঘটনায় একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ কাতার, মিসর, জর্ডান, ওমান, ভারত, জাপান, কানাডা ও মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন দেশ বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘাতের বিস্তার রোধে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাল্টা পদক্ষেপের ইঙ্গিত সৌদি জোটের

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এ হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকে দায়ী করেছে। জোটের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী এবং হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ হামলা ঘটেছে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের সরকার-সমর্থিত পক্ষকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে।

হুথিদের পক্ষ থেকেও সৌদি বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে নতুন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বেসামরিক বিমান চলাচল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে আঞ্চলিক দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোও আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক স্থাপনা ও বিমান চলাচলকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে আহতদের চিকিৎসা, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এখন তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক মহল সংঘাতের বিস্তার রোধ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।

সম্পাদনা নোট: প্রকাশের আগে হতাহতের সর্বশেষ সংখ্যা, দুই বাংলাদেশির পরিচয় এবং হামলার দায়-সংক্রান্ত তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র থেকে পুনরায় যাচাই করা জরুরি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension