
শামসুজ্জামান খান
যখন জানলাম শামসুজ্জামান খান লাইফ সাপোর্টে, তখন থেকেই ক্ষণগণনা চলছিল। অবশেষে তিনি চলে গেলেন কাল।
তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় প্রথম আলোর কোনো এক অনুষ্ঠানে। ফেসবুকে আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেন। এটা ছিল আমার জন্য পরম শ্লাঘার বিষয়। একদিন হঠাৎ ফোন পেলাম। ‘বিএনপি: সময়-অসময়’ বইটির খুব প্রশংসা করলেন।
একদিন কথা প্রসংগে বললেন, সিরাজুল আলম খান তাঁর বন্ধু। ঢাকা হলে (পরে নাম হয় শহিদুল্লাহ হল) তিনি প্রিফেক্ট ছিলেন। হলে সিরাজুল আলম খানের কোনো সিট নেই। তিনি তাঁর কামরায় ফ্লোরে ঘুমাতেন।
বললাম, আমি সিরাজ ভাইকে নিয়ে বই লিখছি। আপনার একটা সাক্ষাৎকার চাই। তিনি রাজি হলেন। কথামতো জাতীয় যাদুঘরে তাঁর অফিসে গেলাম এক সকালে। তিনি তখন রাস্তায় জ্যামে আটক। বললেন পাঠক সমাবেশে বিজুর ঘরে অপেক্ষা করতে। তাঁর অফিস এর পাশেই। তিনি তখন জাতীয় জাদুঘরের সভাপতি। আমি বিজুর অফিসে চা খাচ্ছি। একটু পরে এসে আমাকে তাঁর অফিসে নিয়ে গেলেন।
অনেকক্ষণ কথা হলো। জানতে পারলাম, তিনি ছাত্রলীগ করতেন। ঢাকা হল ছাত্রসংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি পদে দড়িয়েছিলেন। সেবার ছাত্রলীগ আর এনএসএফ মিলে জোট করেছিল ছাত্র ইউনিয়নের বিরুদ্ধে। তিনি জোট করতে অস্বীকার করেন। ভোটে হেরে যান।
১৯৬৩ সালে পাকিস্তান মাঠে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে কে এম ওবায়দুর রহমান সভাপতি এবং সিরাজুল আলম খান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার। এসব কথা লিখেছি ‘প্রতিনায়ক’ বইয়ে।
সাক্ষাৎকার শেষে তিনি আমাকে তাঁর একটা বই গিফট করলেন, ‘শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ’।
‘প্রতিনায়ক’ প্রকাশিত হওয়ার পর তাঁকে কপি পাঠিয়েছি। ফোন করে তিনি একটা বানান ভুল নজরে এনেছিলেন। রেকর্ডকৃত সাক্ষাৎকার শুনে লিখতে গিয়ে ঢাকা হলে তাঁর প্রতিবেশী মোফাজ্জেরুল হকের কথা লিখেছি। উনি বললেন, নামটি হবে মোফাজ্জেলুল হক। আরও বললেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কলিমুল্লাহ তাঁর ছেলে বা ছাত্র (ফোনে স্পষ্ট শুনতে পাইনি)।
শামসুজ্জামান খান আমাকে খুবই পছন্দ করতেন। ফোনে অনেক কথা হতো। আস্তে আস্তে কথা বলতেন, বেশ গুছিয়ে। তাঁকে নিয়ে অনেকেই ট্রল করে, গালমন্দ করে। আমার কাছে মনে হয়েছে, তিনি বিনয়ী, সজ্জন। আমি তো আমার চোখ দিয়েই দেখি।
শামসুজ্জামান খান জগন্নাথ কলেজে এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ ফজলুল হক মনির ক্লাসমেট ছিলেন। ভেবেছিলাম পরে সুবিধাজনক সময়ে ষাট ও সত্তরের দশক নিয়ে তাঁর একটা বিস্তারিত সাক্ষাৎকার নেব। সেটি আর হবে না।
তাঁর আত্মার শান্তি হোক।
লেখক: লেখক ও গবেষক
মহিউদ্দিন আহমদের ফেসবুক পোস্ট




