
সুদান ৩০ বছরের ইসলামি আইনের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করল
সুদান সরকার বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হলো
উত্তর আফ্রিকার সুদানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশটিতে ৩০ বছরের ইসলামি শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করতে সম্মত হয়েছে।
সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হামদোক এবং সুদান গণ-মুক্তি আন্দোলন-উত্তর বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা আবদেল-আজিজ আল-হিলু বৃহস্পতিবার প্রস্তাবটি গ্রহণ করে ইথিওপিয়ার রাজধানী অ্যাডিস আবাবায় একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর সুদান পিওপল’স লিবারেশন (নর্থ)-এর সঙ্গে রাষ্ট্রের সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছিল গেল বছরেই। কিন্তু মৈত্রী প্রস্তাবে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করেন সশস্ত্র এই সংগঠনটির সদস্যরা। কেননা ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে না এমন কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে তারা অস্বীকার করে আসছিল।
অবশেষে গেল শুক্রবার দু পক্ষের চুক্তির মধ্য দিয়ে সুদানের ইসলামি রাষ্ট্রের পরিচয় ঘুচল। এখন থেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবেই পরিচিত হবে সুদান।
১৯৮৯ সালে বশির ক্ষমতা দখল করার পরেই দেশটিকে ‘ইসলামি বিশ্বের ভ্যানগার্ড’ হিসাবে
ঘোষণা করে। এর জন্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় সুদানকে। এমনকি আল-কায়েদা এবং কার্লোস জ্যাকল দেশটিতে ঘাটি গেড়েছিল; পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সুদান সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে অভিযোগ করেছিল, পরে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সুদান সশস্ত্র বিপ্লবী শক্তি পিপলস্ লিবারেশনের বিরোধিতা করেছে। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়েছিলেন তারা। ফলে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের কাছে রাষ্ট্রপক্ষকে নতিস্বীকার করতে হলো।
শুক্রবার চুক্তি সাক্ষরের পর সুদানের প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লা হ্যামদক এবং পিপলস্ লিবারেশনের নেতা আজিজ আল-হিলু গণমাধ্যমকে বলেছেন, সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত, কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব সব সময় মুক্তচিন্তার পক্ষে থাকা।
ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসাবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সুদানের ভাবমূর্তি উন্নত হবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।❐
মিডল ইস্ট মনিটর



