
সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরোধী দল গঠনের ঘোষণা
সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বীদের একটি দল দেশটিতে বিরোধী দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। দলটির সদস্যরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে নির্বাসনে রয়েছেন। সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজের শাসনামলে এটিই প্রথম সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধ।
সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যা, এর কিছুদিন পরেই রাজপ্রাসাদে হামলায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের গুরুতর আহত হওয়া, ইয়েমেনে আগ্রাসন, কাতার-ইরান-তুরস্কের বিরোধিতাসহ গেল কয়েক বছর ধরেই চাপে আছে দেশটির রাজপরিবার। বিশেষ করে সাবেক যুবরাজ নায়েফকে হটিয়ে যখন মোহাম্মদ বিন সালমানকে সিংহাসনের উত্তরাধিকার ঘোষণা করা হয় তখন থেকেই নতুন নতুন সংকটগুলো দেখা দিতে শুরু করে।
তবে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এটাই সেখানে প্রথম কোনো সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধ।
মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর এ দেশটিতে এর আগে ২০০৭ ও ’১১ সালে এককভাবে রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। সে সময় ক্ষমতাসীন রাজপরিবার রাজনৈতিক দল গঠনের সঙ্গে জড়িতদের সফলভাবে দমন করতে সক্ষম হয়। তবে এবার যারা দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন গত বুধবার তারা এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য সৌদি আরবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
দলটির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, দলের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছেন লন্ডনভিত্তিক বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ইয়াহিয়া আসিরি। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষাবিদ মাদায়ি আল-রশিদ, গবেষক সাঈদ বিন নাসের আল-গামদি, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবদুল্লাহ আলাউদ এবং কানাডাভিত্তিক ওমর আবদুল আজিজ।
রয়াল সৌদি এয়ার ফোর্সের সাবেক কর্মকর্তা এবং নতুন দলটির মহাসচিব আসিরি বলেন, চরম সংকটময় একটি মুহূর্তে দেশ রক্ষার তাগিদ থেকে আমরা এ দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ প্রতিষ্ঠা করা এবং শাসনকাজে জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটানো।
ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরবে সব ধরনের রাজনীতির সুযোগ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় এ ঘোষণা দিতে হয়েছে। পরাক্রমশালী সৌদি রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতন এত সহজ না হলেও, সৌদি শাসকের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা মানেই প্রবল ক্ষমতাধর সৌদি রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতন নয়। যদিও তেলের দাম হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জি-২০ বৈঠক নিয়ে ব্যস্ত সৌদি শাসকের জন্য এটি স্পষ্টত একটি চ্যালেঞ্জ আকারে হাজির হয়েছে।❐



