
কোমল দাস
সূর্যটা ডেকে বলে সূর্যমুখীকে
“রঙ জ্বলে হয়ে যাবে একেবারে ফিকে,
তাড়াতাড়ি মুখখানা আড়ালেতে ঢাকো
মোর দিকে সারাদিন কেন চেয়ে থাকো?
আমার প্রখর তাপে জীব দূরে থাকে
তরুলতা সারাদিন থামো বলে হাঁকে,
জল বলে আর তুমি বাষ্প করো না
নিঠুর উপায়ে ফের কায়াতে পড়ো না।
অথচ তোমাকে দেখি সদা থাকো চেয়ে
বলো না কি লাভ পাও এই গান গেয়ে?
নিজ কাজে মন দাও এই পথ ছেড়ে
নচেৎ জীবন পথে যাবে ওগো হেরে।
ছাতা নিয়ে মানুষেরা চলে মোর তাপে
কখনো বা কেউ কেউ ভয়ে ভয়ে কাঁপে,
সৃষ্টির সেরা জীব ছায়া দিয়ে হাঁটে!
চৈত্রের তাপে জানো মাঠঘাট ফাঁটে?”
বললো সূর্যমুখী, “সব জানি আমি
কিন্তু আমার কাছে ভালোবাসা দামি,
তাই সখা ভালোবাসি মন সঁপে দিয়ে
তোমাকে না দেখে বলো থাকবো কি নিয়ে?
তোমারই বিহনে সখা এ জীবন ফাঁকি
তাই তো তোমার দিকে সদা চেয়ে থাকি,
তোমাকে দেখেই ওগো মন হয় ভালো
নিমিষেই ঘুচে যায় মননের কালো।
জানি সখা কোনদিন তোমাকে না পাবো
তবু আমি দূর থেকে ভালোবেসে যাবো,
তুমি শুধু আলোটুকু দিও সখা দিনে
বেঁচে থাকা হবে না গো তব আলো বিনে।
সূর্য বললো কেঁদে, “ওগো সখি মোর
কথা শুনে কেটে গেছে হৃদয়ের ঘোর,
এইরূপ ভালোবাসা দেখিনি তো আর
তোমার এ ভালোবাসা জগতের সার।”



