
সাজু কবীর
নাক দড়ি ছেঁড়া ষাঁড় তেড়ে আসে লম্ফঝম্প দিয়ে
তাগড়া ত্রাসে সন্ত্রস্ত পায়রারা উড়াল দেয় নিরুদ্দেশে
ঘুঘুদল নৃত্য ছেড়ে প্রাণভয়ে দ্রুত লুকোয় সরষেক্ষেতে
তীক্ষ্ণ দাঁতে পয়মাল মাঠের সবুজ ভালবাসা
এ কেমন ইচ্ছেসুখ! বলো, এ কেমন স্বাধীনতা!
অরক্ষিত রক্তবিল যেন জলৌকার সুরক্ষিত গোলাবাড়ি
লালপদ্ম নীল হয়, কাণ্ডে তার শুষ্ক মরুভূমি
খলসে নেই, পুঁটি নেই; বক নেই, নির্বাক ডাহুক-ডাহুকি
শ্যাওলার দামে দমবন্ধ বিলের জীবনে পরাজয়ের গ্লানি।
অনুক্ষণ হানা দেয় সংসারের মৌচাকে দুবৃত্ত
কাফন-মোড়া ইজ্জত মড়িঘরে শুয়ে থাকে নিত্য
বেজন্মা পেশীওয়ালা পাগলা কুকুর হয়ে ছুটে
‘ঘা খাওয়া অধিকার’ প্রতিনিয়ত মাথা কোটে মরে।
লুটেরা জাগ্রত সদা
তল্লাটে তল্লাটে লুঠ হয় স্বাধীনতা,
লুট হয় নাগরিক, জ্বালার জলে নগর ভাসে
দস্যুদের হুইসেলে ‘মানবিক বন্দর’ থরথর কাঁপে।
সভ্য বলে দাবি করি অথচ নিরুদ্দেশ সভ্যতা
কেউ মারে, কেউ মরে; কেউ বা নির্বিঘ্ন, কেউ বা শৃঙ্খলে বাঁধা
এ কেমন স্বাধীনতা! এ যেন অসহ্য স্বাধীনতা!



