
উৎসর্গ: কাহলিল জিবরান
তার চোখে চোখ রেখে আমিও পাইনি ভালোবাসা
পেয়েছিলাম কেবল মুহূর্তের সুখ;
সর্বনাশা শারীরিক প্রেমে কাছে আসা
যেন বর্তমানে ব্যাপ্ত অতীত অসুখ।
তবুও মানুষ সঙ্গী চায়
যদিও সে জানে প্রেম এক মায়াবী মুদ্রার নাম;
অসীম আঁধারে মাঝে মাঝে চমকায়
মাঝে মাঝে জীবনের দেয় না বিরাম।
হায় আধুনিক অমানুষ,
রাতের নির্জনতায় ভদ্রতার পোশাকে পিশাচ;
শাশ্বত শান্তির নামে ওড়াই ফানুস
নাগিনীর সাথে সারারাত আমি করি নাচ।
সতীত্ব এখন বিলাসিতা
নপুংসক নাগর রোজ রাতে বিক্রি করে পাপ;
লজ্জাহীনা বেহায়া বধূ বারবণিতা
বিছানায় করে প্রণয়ের পরিমাপ।
কবিতার খাতা আজ কাঁদে
মড়ক লেগেছে যাবতীয় মানবিক মুগ্ধতায়;
প্রেমিকের মন ভরা বিয়োগান্ত বিবিধ বিষাদে
নেমেছে চতুর সন্ধ্যা, তবু নন্দনিক নীলিমায়।
মাটির মধুর পথে ধূসর সময়
অলসতা অগোচরে বিস্তার করেছে গোরস্থানে;
অতীতের অট্টালিকা হয়ে গেছে ক্ষয়
অনেক মায়াবী স্মৃতি প্রেমের প্রগাঢ় শোক গানে।
সন্ধ্যার সোনালী রঙ ঈগলের ঠোঁটে
চোখে তার সমুদ্রের সীমানায় রূপালী মাছের ক্ষুধা;
আকাশ আঁধার হলে সুদূর নক্ষত্রে যেন ফোটে
অপার্থিব আলো—মহাকালে ভাসে জ্যোতির্ময় সুধা।
বিধাতার বাঁশি বাজে সমবেত সুরে
ম্রিয়মাণ মহাকাল ছুটে চলে অমরার পানে;
তবুও পৃথিবী অজানায় ঘুরে ঘুরে
বয়স বাড়ায় রোজ কাহার সন্ধানে?
পাহাড় প্রান্তর পাড়ি দেয় নদী সমুদ্রসঙ্গমে
মানুষের মতো সে-ও হাঁটে মৃত্যুর মধুর টানে;
যদিও প্রেমের মড়া ছোঁয় না কখনো কোনো যমে
সমুদ্রে সমাধি তার এই কথা সব নদী জানে।
শেষ বলে কিছু নেই, আর শুরু নেই মহাকালে
একটি মুহূর্ত শুধু বেঁচে থাকে মন;
চেতনার চোরাবালি আমায় বেঁধেছে তার জালে
প্রখর সূর্যের দিনে তাই ঘনালো সংবর্তন।



