
মধ্যরাতের অশ্বারোহী
জাকির হোসেন
ফয়েজ ভাই ছিলেন ‘সময়’-এর মানুষ। সময়ের সঙ্গেই তাঁর ছিল গভীর সংযোগ ও স্বাভাবিক আত্মীয়তা। সুদীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে তিনি বহু অস্থির সময়কে জন্মাতে দেখেছেন, অনেক বিরল সময়ের সাক্ষী হয়েছেন এবং অনেক উত্তাল সময়ের প্রস্থানকে প্রত্যক্ষ করেছেন। জীবনের স্বাভাবিক নিয়মেই তিনি ধাবমান সময়কে ধারণ করেছেন, সময়ের স্রোতে তাল মিলিয়ে দ্রুত লয়ে ছুটেছেন, আবার বৈরী সময়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। সময়ের প্রয়োজনে প্রতিবাদী হওয়াটা ছিল তাঁর সহজাত প্রবৃত্তি। সারাটা জীবন তিনি মিথ্যা, অশিক্ষা, শাসন, শোষন, নির্যাতন এবং নিপীড়নের প্রতিবাদ করেছেন। লড়াই করেছেন অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে।
ফয়েজ ভাইয়ের পারিবারিক নাম ‘ফয়েজ আহমদ চৌধুরী’। ‘তবু ফয়েজ আহমদ’ নামেই তিনি সমধিক পরিচিত। এ কারণে যে, ফয়েজ ভাই তাঁর নাম থেকে চৌধুরী শব্দটি বাদ দিয়েছিলেন। অকারনে নয়, নিছক কোন খেয়ালের বশেও নয়, এর পেছনেও আছে একটি প্রতিবাদের কাহিনী। ফয়েজ ভাই তখন ক্লাস নাইনে পড়েন। এসময় তাঁর চাচা নিকটতম ‘বেজগাঁও’ গ্রাম (গ্রামবাসীরা তাদের প্রজা) থেকে একটি বড় শিরিষ গাছ লাকড়ি বানানোর জন্য কেটে আনেন। এতে অসহায় প্রজারা কোন প্রতিবাদ করতে পারে নি বা করে নি। কিন্তু ফয়েজ ভাই বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারেন নি। একদিন রাতে তিনি নিজ পাড়ায় জমিদার বিরোধী সভা করেন। সভাশেষে কয়েকজন যুবক বলেন,- ‘চৌধুরী বাড়ির পুলা তাদের জন্য কী করতে পারে।’
অর্থাৎ তারা বলতে চেয়েছিলেন, প্রজারা কখনও জমিদারের আত্মীয় হতে পারে না, শ্রেণী স্বার্থেই জমিদার সর্বদা প্রজা স্বার্থবিরোধী। তাই প্রজাদের প্রতি অবিচারের প্রতিকার একে দিয়ে হবে না। এ কারণে ফয়েজ ভাই তাঁর নাম থেকে ‘চৌধুরী’ শব্দটি বাদ দেন। এটি ছিল ওই যুবকদের পক্ষে তাঁর চাচার কৃতকর্মের প্রতিবাদ।
এমনিভাবেই ফয়েজ ভাই সারা জীবন অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। মানুষের অধিকার ও সুযোগের সাম্য প্রতিষ্ঠার লড়াইকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রত্যক্ষভাবে লড়াই করেছেন সাম্রাজ্যবাদ এবং সামন্তবাদের বিরুদ্ধে। তাঁর লড়াই একজন, দু’জন, দশজন কিংবা একশ’ জন জমিদারের বিরুদ্ধে ছিল না- ছিল জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। জমিদারি প্রথার অবসান চেয়েছেন তিনি, অবসান চেয়েছেন সেই অমানবিক ব্যবস্থার যা জমিদারদের জন্ম দেয় এবং তাদের রক্ষা করে, যা নির্দয়ভাবে শোষণ করে, নির্যাতন করে, মানুষকে সর্বশান্ত করে।
তিনি অত্যন্ত স্পস্টভাবেই জানতেন যে, সামন্তবাদের পেছনে থাকে রাষ্ট্রীয় শক্তি, আর এই রাষ্ট্রীয় শক্তির পেছনে থাকে সাম্রাজ্যবাদ। ফলে জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ তা কোন বিচারেই রাজনীতি নিরপেক্ষ নয়, সেই সঙ্গে এই যুদ্ধ অতিঅবশ্যই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। এই যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য প্রয়োজন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ। তাই প্রথম যৌবনেই প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং এর বিকাশে নিরন্তর কাজ করেন। পাশাপাশি শামিল হন শোষণ, বঞ্চনা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরোধী লড়াইয়ে।
অর্থনৈতিক বৈষম্যই যে মানুষের মাঝে কৃত্রিম ব্যবধান সৃষ্টি করে এই মার্কসীয় বোধটি ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে সক্রিয় ছিল। কৈশোর থেকেই তাঁর সকল কাজে ও উদ্যোগে দৃষ্টিভঙ্গিটা ছিল একজন স্বচ্ছ বামপন্থীর। কালের যাত্রায় তাঁর বয়স বেড়েছে, অভিজ্ঞতার নানামুখী বিস্তার ঘটেছে, কিন্তু অঙ্গীকারটি কখনও ভাঙে নি। শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইকে এগিয়ে নিতে তিনি বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। বিনাদোষে কারাগারের নির্জন সেলে নির্মম নির্যাতন সয়েছেন। জেলখানার গাঢ় অন্ধকারে তাঁর জীবন ও যৌবনের অনেক আশা, আকাঙ্ক্ষা, প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনার মৃত্যু হয়েছে, কবর রচিত হয়েছে অনেক স্বপ্ন ও সাধের। তবুও আদর্শচ্যুত হন নি ফয়েজ ভাই। দুঃশাসনের প্রাচীরের সঙ্গে প্রাণের বিরোধে জয় হয়েছে প্রাণের। আর ফয়েজ ভাই হয়ে উঠেছেন আমাদের অন্বিশেষ অনুপ্রেরণার উৎস।
ফয়েজ ভাইয়ের পরিচয় একটি নয়, একাধিক। সাংবাদিকতা এবং রাজনীতির পাশাপাশি সক্রিয় ছিলেন সাহিত্য এবং সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায়। লেখক হিসেবে তাঁর প্রধান পরিচয়- তিনি শিশুসাহিত্যিক। শিশু-কিশোরদের জন্য লিখেছেন ছড়া, কবিতা ও গদ্য। সম্পাদনা করেছেন কিশোর পত্রিকা। ফলে এদেশের কয়েকটি প্রজন্মের শিশু কিশোরদের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
আমার সঙ্গেও ফয়েজ ভাইয়ের পরিচয় সেই ‘৭৮ সালে। আমি তখন প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। সবে হাতে পেয়েছি ‘চয়নিকা’ বই। এতে ছিল ‘ক্রিং ক্রিং টেলিফোন’ শিরোনামে ফয়েজ ভাইয়ের লেখা খুব মজার একটি ছড়া। এ ছড়াটির পাশে ছিল ইঁদুর-বেড়ালের ফোনালাপের ছবি-
ক্রিং ক্রিং টেলিফোন
হ্যালো হ্যালো হ্যালো
কে তুমি কাকে চাও
বলো বলো বলো
আমি ম্যাও হুলো ক্যাট
ইঁদুরকে চাই
জরুরী আলাপ আছে
তুমি কে হে ভাই?
আমি ইঁদুর তবে,
কথা হলো এই
আমি গেছি মার্কেটে
বাড়িতে নেই।
ক্রিং ক্রিং টেলিফোন
শোন হে ইদুঁর,
শুনবো না শুনবো না
দূর দূর দূর…
ফয়েজ ভাইয়ের এই ছড়াটি আমাদের খুব প্রিয় ছিল। এখনও খুব প্রিয় বৈকি। কতবার যে পড়েছি এর হিসেব নেই। এই ছড়ার মাধ্যমেই তাঁর সঙ্গে প্রথম পরিচয়। তবে ফয়েজ ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম কথা হয় ১৯৯৯ সালে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে। প্রথম পরিচয়েই ফয়েজ ভাই আমার হাত ধরেন শক্ত করে, অত্যন্ত আপনজনের মত, যেতে বলেন বাসায়। বাড়ির ঠিকানা এবং অবস্থান বুঝিয়ে দেন গভীর আন্তরিকতায়। এ সত্ত্বেও তাঁর বাসায় যাওয়া নিয়ে নানারকম দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগেছি, নানা আঙ্গিকে ভেবেছি অনেকবার। একারণে যে, যান্ত্রিক এই ঢাকা শহরে মানুষের সঙ্গে মানুষের এমন পরিচয় প্রায়শই হয়। অফিসে-আদালতে, পথে-প্রান্তরে অনেকেরই দিনের পর দিন দেখা হয়, প্রতিদিন নানারকম আলাপ আলোচনা হয়, সুখ-দুঃখের কথাবার্তা হয়। অথচ একে অপরের বাড়ি চেনে না, পরিবারকেও জানে না। সময়ের বিচারে এদের সম্পর্ক যত দীর্ঘই হোক না কেন, বাইরের জগতের এই পরিচয় ও জানাশোনার বিষয়টি নির্দিষ্ট গণ্ডির মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে। সীমানা পেরিয়ে তা বেশি দূর এগোয় না। এ সত্ত্বেও আমি ফয়েজ ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এই ভেবে যে, নিছক ভদ্রতার খাতিরে যারা বাসায় যেতে বলেন তারা ঠিকানা দেন না, সেইসঙ্গে বাড়ির অবস্থান কেউ যাতে বুঝতে না পারে এ ব্যাপারেও বেশ সর্তক থাকেন। তাদের শারীরিক ভাষার মাঝেই এসবের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ ঘটে।
১৯৭২ সালে ফয়েজ আহমদ ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান সম্পাদক। ওই সময় তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের তথ্য আদান-প্রদান চুক্তি হয়। এ অনুষ্ঠানে সোভিয়েত রাশিয়ার তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী সঙ্গে ফয়েজ আহমদ কয়েকদিন পর হেমন্তের এক বিষন্ন বিকেলে ফয়েজ ভাইয়ের বাসায় যাই। ঠিকানা খুব সহজ, ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির ঠিক পেছনের বাসায় থাকেন তিনি। বাড়ির নিচ তলায় আনন্দ উল্লাস কমিউনিটি সেন্টার, ফয়েজ ভাই থাকেন তিন তলায়। দরজায় টোকা দিতেই ফয়েজ ভাই দরজা খুললেন। আমাকে দেখে খুব খুশি হলেন, হাসলেন। তাঁর হাসিতে শিশুর সরলতা। বড়ই উদার ও উষ্ণ তাঁর আতিথিয়েতা।
ঢাকা শহরের বুদ্ধিজীবীদের কাছে এটা অপ্রত্যাশিত বৈকি। এ শহরের বুদ্ধিজীবীদের অধিকাংশই ব্যক্তিগত জীবনে ইতর, অসভ্য ও অসামাজিক। সাধারণ মানুষকে এরা মানুষ ভাবে না। বিশেষ প্রয়োজনে বাসায় গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দরজা থেকে বিদায় করে দেন। এরা যে কত খারাপ তা সাধারন মানুষের ধারণার বাইরে। এদের সঙ্গে যারা নানাভাবে যুক্ত তারা জানেন। আর জানেন এদের পরিবারের সদস্যরা। কেননা বাড়ির বাইরের মানুষ আর ভেতরের মানুষে বড় একটা ব্যবধান থাকে না। ব্যবধান শুধু বাহ্যিক, অর্থাৎ পোশাকের। ঘরে এক পোশাক, বাইরে আরেক, কিন্তু অন্তরে সেই একই- ‘সমান অমানুষ’। সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত এই বিরল প্রজাতির প্রাণীগুলো সিভিলও নয়, আবার সোশ্যালও নয়। তবে সবাই এক নন, ব্যতিক্রম আছে বৈকি! কিন্তু ফয়েজ ভাই একেবারেই অন্যরকম। অতিঅল্প পরিচয়েই বোঝা যেত তাঁর আছে আত্মত্যাগের শক্তি, আছে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসার অমূল্য গুণ। তিনি লোভ ও লালসায় সদা ব্যস্ত নন, সর্বদা লাভ খোঁজেন না। নিজের নৈতিক বিকাশ চান এবং যুক্ত হতে চান অপরের সঙ্গে। অন্যকে খুশি দেখলে তিনি খুশি হন, অন্যকে সন্তুষ্ট দেখলে সন্তুষ্ট। তিনি সাধু কিংবা সন্ন্যাসী নন, জাগতিক মানুষ একজন। তবু কখনই স্বার্থপর নন। তাঁর সংস্পর্শ যে কোন মানুষের হৃদয় সুন্দর ও মহৎ চেতনায় পূর্ণ হয়ে উঠত, অনুভব করত প্রশান্তি, আত্মবিশ্বাস হত দৃঢ়। সবচেয়ে বড় যে ব্যাপারটি ঘটত তাহল, জীবনের অসংখ্য দুঃখ, কষ্ট, বঞ্চনা ও যন্ত্রণা তাদের বিচলিত করত না।
প্রথমদিনই আমরা দুজন দীর্ঘসময় আড্ডা দেই। আড্ডাতে ফয়েজ ভাইয়ের কোন ক্লান্তি ছিল না। আড্ডার আসরে আধা ঘন্টা পর পর চা খেতেন। গরুর দুধের ঘন মিষ্টি সুস্বাদু চা। চায়ে প্রথম চুমুক দেয়ার পর প্রায়শই বলতেন, ‘দুধ ছাড়া আবার চা হয় নাকি!’
চায়ের সঙ্গে থাকত শর্ষের তেল ও চানাচুর দিয়ে মাখানো মুড়ি। মাঝে মধ্যে নোনতা বিস্কুট, মুগলাই আর কাবাব। আমার পেশা সাংবাদিকতা এবং মজলুম জন-মানুষের নেতা মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় কোন উপলক্ষ্য ছাড়াই খুব অল্প সময়েই ফয়েজ ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায়শই তাঁর বাসায় যেতাম। দুচার দিনের বিরতি ঘটলে ফয়েজ ভাই ফোন করতেন। সেলফোনে না পেলে খোঁজ নিতেন অফিসে। খবর পেয়ে আমিও ছুটে যেতাম ফয়েজ ভাইয়ের বাসায়। আমাদের এই যোগাযোগ অব্যাহত ছিল ফয়েজ ভাইয়ের জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। ঘন্টার পর ঘন্টা চলতো আমাদের আড্ডা, চলত নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা। তবে এই আলোচনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল এক পাক্ষিক। অর্থাৎ ফয়েজ ভাই ছিলেন বক্তা আর আমি নিরব শ্রোতা। চুপচাপ বসে ফয়েজ ভাইয়ের জীবনের বিচিত্র সব কাহিনী শোনা, আর একটু পরপর চা, মুড়ি-চানাচুর ও কাবাব খাওয়াই ছিল আমার প্রধান কাজ। তবু ফয়েজ ভাইয়ের মত একজন মহান ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্য লাভের কারণে আমি খুব খুশি ছিলাম।
আড্ডায় ফয়েজ ভাই চলমান রাজনৈতিক এবং সামাজিক নানা বিষয় নিয়ে কথা বলতেন। পাশাপাশি কৈশোরের দুরন্তপনা, রাজনৈতিক জীবনে কারাভোগ, আন্ডারগ্রাউন্ডের জীবন, বিনা পাসপোর্টে ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক যুব সম্মেলনে যোগদান, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, পেশাগত নানা বিষয়, সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিচিত্র ও হৃদয় বিদারক ঘটনা বলতেন প্রাঞ্জল ভাষায়। মাঝে মধ্যে আমি নোট নিতাম। পরে এগুলো বিভিন্ন পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে লিখতাম। ফয়েজ ভাইকে নিয়ে সাহিত্য সম্পাদকদের আগ্রহের কোন কমতি ছিল না। তাই আমার লেখাগুলো অধিকাংশ সময় প্রকাশ হতো প্রধান রচনা হিসেবে।
বর্ণাঢ্য জীবন ছিল ফয়েজ ভাইয়ের। পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু হওয়া সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন তিনি। মজলুম জন-মানুষের নেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর স্নেহধন্য ছিলেন। সম্পর্ক ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গেও। এদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেই ফয়েজ ভাইয়ের যোগাযোগ ছিল, কেবল সাংবাদিক হিসেবে নয়, রাজনীতিতে তাঁর আগ্রহের কারণেও। আগেই বলেছি, বরাবরই রাজনীতে সক্রিয় ছিলেন ফয়েজ ভাই, তিনি কখনই রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন নি। সারাজীবন তিনি প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করেছেন। সবসময় যুক্ত ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে। তার উষ্ণ সম্পর্ক ছিল আত্মগোপনকারী ও বিপজ্জনক বাম নেতাদের সঙ্গেও।
(চলবে)
লেখকঃ সাংবাদিক



