
‘খাশোগি এখনও বেঁচে!’
রূপসী বাংলা ঢাকা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর নিখোঁজ হন সৌদি আরবের সাংবাদিক জামাল খাশোগি। তুরস্কের দাবি, সৌদি সরকারের নির্দেশে তাকে কনস্যুলেটের ভেতরই হত্যা করা হয়েছে, সৌদি সরকার তা স্বীকারও করেছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পুলিশের সাবেক প্রধানের দাবি খাশোগি এখনও বেঁচে থাকতে পারেন।
টুইটারে দেয়া এক বার্তায় দুবাই পুলিশের সাবেক প্রধান দাহি খালফান বলেছেন, এখন পর্যন্ত তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি, তার ডিএনএ’ও পাওয়া যায়নি এবং তার পরিবারের সদস্যরা শেষকৃত্যও আয়োজন করতে পারেননি। এতে মনে হচ্ছে যে, খাশোগি বেঁচে আছেন।
তবে তার ধারণাটি সম্পূর্ণ অনুমান নির্ভর। খাশোগি যে বেঁচে আছেন এ ধরনের কোনো প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।
দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাশোগি এক সময় রাজপরিবারের উপদেষ্টা ছিলেন। পরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে বিয়ের কাগজপত্র আনতে যান খাশোগি। সেখান থেকে তিনি আর বেরিয়ে আসেননি। তুরস্কের দাবি, সৌদি আরবের রাজপরিবার ও সরকারের নির্দেশেই সরকারি গোয়েন্দারা ঠান্ডা মাথায় খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন।
সৌদি রাজপরিবারের কট্টর সমালোচক ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাসোশিকে হত্যা করাটা ছিল সৌদি সরকারের পূর্ব পরিকল্পিত। খাশোগিকে নিজেদের দূতাবাসে ডেকে আনা হয়েছিল হত্যার জন্যই। এ হত্যাকাণ্ডে ১৫ জনের একটি স্পেশাল ইউনিট অংশ নেয়।
তাদের দাবি, ২ অক্টোবর খাশোগি ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার কিছুক্ষণ পরেই তাকে জেরা করেছিলেন সৌদি থেকে আসা গোয়েন্দারা। কথা কাটাকাটির পর তাকে প্রথমে মারধর করা হয়। তারপর গলাটিপে হত্যা করা হয়। এর পরেই শিরশ্ছেদ করা হয় সৌদির সরকারি নিয়ম মেনে। মুণ্ডচ্ছেদের পর সযত্নে শরীরটাকে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়।
কিন্তু ভারী শরীরের দেহাংশ রাতারাতি লোপাট করা সম্ভব নয় বুঝে তা নাইট্রিক অ্যাসিডে চোবানো হয়। দেহাংশ অ্যাসিডে কয়েক ঘণ্টা গলানোর পর তা নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়। বেশ কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যা অ্যাসিডে গলেনি প্লাস্টিক কন্টেনারে রেখে অনেক দূরে কোনো ডাস্টবিনে ফেলার জন্য পাচার করে দেওয়া হয়।



