
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: মারা গেলেন সাহিত্যিক দিব্যেন্দু পালিত। আজ ৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তিনি গতকাল বুধবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। ছেলে সিঙ্গাপুর থেকে ফিরলে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
দিব্যেন্দু পালিতের জন্ম ভাগলপুরে, ১৯৩৯ সালের ৫ মার্চ । তিনি ১৯৮৪ সালে আনন্দ পুরস্কার সম্মান পান। ১৯৯৮ সালে ‘সাহিত্য একাডেমী’ সম্মাননাও পেয়েছেন দিব্যেন্দু পালিত। পঞ্চাশের দশক থেকে উপন্যাস, গল্প, কবিতা প্রবন্ধ লিখছেন তিনি। বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্র , দূরদর্শন ও বেতারে রূপায়িত হয়েছে তাঁর অনেক কাহিনী।
১৯৫৫ সালে তাঁর লেখা প্রথম গল্প ‘ছন্দপতন’ ছাপা হয়েছিল আনন্দবাজারের রবিবাসরীয়তে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘তুলনামূলক সাহিত্য’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনা করেছেন তিনি। তার লেখা ‘মূকাভিনয়’ গল্পটি নিয়ে ২০০৫ সালে শ্যামানন্দ জালান একটি ছবিও তৈরি করেছিলেন।
দিব্যেন্দু পালিতের লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ সমূহের মধ্যে রয়েছে, অচেনা আবেগ, অনুভব, অনুসরণ, অন্তর্ধান, অমৃত হরিণ, একদিন সারাদিন, ঢেউ, যখন বৃষ্টি, সঙ্গ ও প্রসঙ্গ, রজত জয়ন্তী, সংঘাত, সতর্কবার্তা, সিনেমায় যেমন হয় ও হঠাৎ একদিন।
দিব্যেন্দু পালিতের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে টুইট করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইট বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক দিব্যেন্দু পালিতের প্রয়াণে গভীরভাবে শোকাহত। ওনার পরিবার ও পাঠককুলকে জানাই সমবেদনা।
দিব্যেন্দু পালিতের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সাহিত্যিক আবুল বাশার। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘দিব্যেন্দু দা খুব অল্প কথা বলতেন। মননশীল সাহিত্যের যে ধারা, সেই ধারার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি। তাঁকে হারানো খুব কষ্টের। অনেক পড়াশুনা ছিল। অনেক কিছু শেখা যেত। একসঙ্গে অনেক জায়গায় গিয়েছি। বাবার মতো ছিলেন। অভিভাবক হারালাম।’
শোকপ্রকাশ করে শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার এক প্রতিক্রিয়া বলেন, ‘সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সময়ের সব থেকে কুশলী রূপকার ছিলেন দিব্যেন্দু পালিত।’



