
পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে প্রবাসী নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করেছে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখা
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক:বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার উদ্যোগে সংবর্ধনা প্রদানের সমাবেশ হয় জ্যাকসন হাইটসে বেলোজিনো পার্টি হলে। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসীর বিপুল সমাগমে এই সংবর্ধনা সমাবেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন-কর্ম সম্পর্কে সকলেরই পড়াশোনা করা দরকার। ইতিমধ্যেই ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম এই বাঙালির জীবন-ইতিহাস সম্বলিত বেশ কটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো পড়লে সকলেই সত্যিকারের ইতিহাসের সন্ধান পাবেন। একইসাথে প্রবাস প্রজন্মকেও বাঙালির এই মহানায়কের জীবন-কর্ম অবহিত করা উচিত।’

‘সামনের বছর জাতিরপিতার জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে এই প্রবাসেও কর্মসূচি নিতে হবে। আয়োজন করতে হবে কনসার্ট, টাউন হল মিটিং, চিত্র প্রদর্শনী, র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। দূতাবাস, মিশন, কন্স্যুলেট এসব কর্মসূচির সমন্বয় ঘটাবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেবে’-বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ তৈরী হয়েছে। তাই প্রবাসীদের আরো বেশী বিনিয়োগ করতে হবে। এজন্যে সুযোগ-সুবিধারও সম্প্রসারণ ঘটানো হয়েছে’-বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

নিউইয়র্কে নিজস্ব ভবনে ‘বাংলাদেশ কন্স্যুলেট’ অফিস স্থাপন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু নিউইয়র্কে নয়, ৭৮টি দেশেই দূতাবাস/মিশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে নিজস্ব ভবনে মিশন এবং স্থায়ী প্রতিনিধির বাসভবন ক্রয় করেছি। এরপর প্রতি বছর বাংলাদেশের ৪৫ হাজার ডলার করে সাশ্রয় হচ্ছে।

‘৩০ ডিসেম্বরকে প্রবাসী দিবস’ ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রবাসীদেরকে আরো বেশী দেশমুখী করতে বর্তমান সরকার অঙ্গিকারাবদ্ধ। তাদের অভিজ্ঞতাকেও সরকার কাজে লাগাতে চায়। তাই নিজ নিজ এলাকার দূতাবাস/মিশন/কন্স্যুলেটের সাথে বিনিয়োগে আগ্রহীরা যোগাযোগ করতে পারেন-বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে মন্ত্রী বানিয়ে প্রকারান্তরে প্রবাসীদেরকেই সম্মানিত করেছেন’-উল্লেখ করেন ড. মোমেন।
বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. খন্দকার মনসুর এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সেক্রেটারি আব্দুল কাদের মিয়া। সাংবাদিক-মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার এবং চট্টগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ¯্রাব আলী খান লিটনের সঞ্চালনায় শুরুতেই ‘প্রবাসের অহংকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন’কে ক্রেস্ট প্রদান করে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন।

ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, সহ-সভাপতি আবুল বাশার চুন্নু এবং ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও সেক্রেটারি ক্রেস্ট হস্তান্তর করেন বিপুল করতালির মধ্যে। এরপরই ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন কর্মসূচির সূচনা ঘটায় ফোবানার নেতৃবৃন্দ। নির্বাহী সচিব জাকারিয়া চৌধুরী, ৩৩তম ফোবানার হোস্ট কমিটির আহবায়ক নার্গিস আহমেদ ও সদস্য-সচিব আবির আলমগীর ছিলেন এ সময়। নিউইয়র্কের সকল কর্মসূচিতেই মন্ত্রীর সাথে ছিলেন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠনের নেতা আকাশ খান । নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মকর্তারাও মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়াও ডজন দেড়েক সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উৎসবমুখর পরিবেশে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।



