প্রধান খবররাজনীতি

শেখ হাসিনা রানি হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ফখরুল

ঢাকা প্রতিনিধি:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রানি হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর তার কারণেই জনগণ কষ্ট পাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে বিএনপি নেতা এই অভিযোগ করেন।

সমাবেশটি হয় বন্দর নগরীর কোতয়ালি থানার নূর আহমদ সড়কে দলীয় কার্যালয়ের সামনে। বিএনপির পরিকল্পনা ছিল লালদীঘি ময়দানে বড় আকারের সমাবেশ করার। কিন্তু পুলিশ অনুমতি না দেয়ায় সেটি আর হয়নি

এর আগে গত ১০ মার্চ হাদিস পার্ক না পেয়ে খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ হয় সেখানকার দলীয় কার্যালয়ের সামনে সড়কে। তারও আগে ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ১২ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি সমাবেশ করতে পারেনি পুলিশ অনুমতি না পাওয়ায়।

খনার বচন তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়। তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) রানি হয়ে গেছেন। তাই জাতীর ভাগ্যে আজ এত কষ্ট।’

‘এখানে কেউ নিরাপদ নয়। রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, স্কুল থেকে ছাত্রী তুলে নেওয়া হচ্ছে। এই দেশে দুঃশাসন চলছে, আওয়ামী দুঃশাসন।’

‘বর্তমান সরকার মামলার ফরম্যাট করে রেখেছে। যখন যাকে খুশি তাকে ওই ফরম্যাটে ফেলে জেল-জুলুম করছে।’

পুলিশকে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জনগণের দিকে তাকান, জনগণকে প্রতিপক্ষ বানাবেন না। দাম্ভিকতা করে কোনো লাভ নেই, জনগণের চোখের ভাষা পড়ুন। তারা বলছে আপনার আর দরকার নেই।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে গণতন্ত্রের জন্য এত মানুষ প্রাণ দিয়েছে, রক্ত ঝরিয়েছে সে গণতন্ত্র লুট হয়ে গেছে।’

বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে না উল্লেখ করে দলের মহাসচিব বলেন, ‘লুট হয়ে যাওয়া গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য আন্দোলন করছে। এ জন্য তরুণ যুবাদের এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।’

শেখ হাসিনা জনসভা করে ভোট চাইছেন বলেও তার সমালোচনা করেন ফখরুল। বলেন, ‘সরকার প্রধান হেলিকপ্টারে চড়ে ভোট চেয়ে জনসভা করছেন, আর আমাদের সভা করার অনুমতি দিচ্ছে না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, ‘কী যেন? সেতুমন্ত্রী। গতকাল তিনি বলেছেন, বিএনপি দেওলিয়া হয়েগেছে। বিএনপি যদি দেওলিয়া হয়ে যায়, তবে নির্বাচন দিতে এত ভয় কিসের?’

নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহাম্মদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension