
স্বৈরাচার পতন দিবস আজ
আজ ৬ ডিসেম্বর, স্বৈরাচার পতন দিবস। গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের এই দিনে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
এদিন তিনি অস্থায়ী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে অবসান হয় ৯ বছরের এরশাদের স্বৈরশাসনের। মুক্তি পায় গণতন্ত্র।
সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা দখল করেছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটসহ বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর টানা আন্দোলনের মুখে এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে শুরু হয় সামিরক শাসন। দেশের প্রথম সামরিক শাসক জিয়ার ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক আইনে ক্ষমতা দখল করেন হুসেইন মো. এরশাদ।
‘৮৩ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রসমাজের তীব্র প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। ক্ষমতা ধরে রাখতে স্বৈরাচার এরশাদও শুরু করে দমন পীড়ণ। ছাত্রদের রক্তে রাজপথ হয় রক্তাক্ত।
ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোও মাঠে নামে। নতুন গতি পায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে বুকে পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লিখে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় যুবলীগ কর্মী নুর হুসেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন রুপ নেয় গণ আন্দোলনে।
গত বছরের ১৪ জুলাই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ।
‘গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে দিবসটি পালন করে আওয়ামী লীগ। আর ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করে বিএনপি।
‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে দিনটি পালন করে স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের দল জাতীয় পার্টি।❐



