
শুভ জন্মদিনে রইল বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী
রূপসী বাংলা ডেস্ক:”সত্যজিৎ রায় ১৯২১ সালের ২ মে এক বিদগ্ধ এবং সাংস্কৃতিক ঋদ্ধ পরিবারে জন্মগ্রহন করেন।তাঁর পিতা সুকুমার রায় ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর বড় ছেলে।
সত্যজিৎ এর পিতামহ অর্থাৎ সুকুমার রায়ের পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী ছিলেন প্রখ্যাত লেখক,শিশুসাহিত্যিক,চিত্রকর,আলোকচিত্রী,ব্লক ডিজাইনার এবং শিশুতোষ পত্রিকা “সন্দেশ” এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক।বেহালা বাদক হিসেবেও তাঁর যথেষ্ট সুনাম ছিল।
সত্যজিৎ এর মা সুপ্রভা রায় ছিলেন সংগীত শিল্পী ও একই সঙ্গে হস্তশিল্পে পারদর্শি।
১৯২৩ সালে সত্যজিৎ এর পিতা সুকুমার রায় মারা যান।তখন সত্যজিৎ এর বয়স মাত্র তিন বছর।এর তিন বছর পর প্রিন্টিং এর ব্যবসা তাদের হাত ছাড়া হয়ে যায় এবং সত্যজিৎ ও তাঁর মা’কে তাদের নিজস্ব বাড়ি ছেড়ে যেতে হয়।তাঁরা সত্যজিৎ এর মামা বাড়িতে চলে যান।তাঁর মা সুপ্রভা রায় সূচি কর্মের মাধ্যমে গৃহস্থালির খরচ নির্বাপন করতেন।এখানেই সত্যজিৎবিজয়া(পরবর্তীতে সত্যজিৎ এর স্ত্রী) এর সাথে পরিচিত হন।
সত্যজিৎ ৮ বছর বয়সে বালিগঞ্জ সরকারি বিদ্যালয়ে(Ballygunj Government School)ভর্তি হন।এর আগে তাঁর পড়াশোনা চলছিল তাঁর মায়ের কাছে। ছাত্র হিসেবে সত্যজিৎ মাঝারি মানের ছিলেন।
স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তাঁর চলচ্চিত্র প্রেম শুরু হয়।নিয়মিত হলিউড এর খবর পড়তেন।এমনকি টুকিটাকি খবর ও বাদ যেতনা।”Picturegoer” এবং “Photoplay” এর মতো বিখ্যাত ম্যাগাজিনগুলো তিনি নিয়মিত পড়তেন।এছাড়া “Western classical music” ছিল তাঁর আরেকটি আগ্রহের বিষয়।১৫ বছর বয়সের দিকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন।
মায়ের পীড়াপীড়িতে তিনি প্রেসিডেন্সী কলেজে ভর্তি হন।প্রথম দুই বছর বিজ্ঞান নিয়ে পড়ালেখা করলেও তৃ্তীয় বর্ষে তিনি অর্থনীতি নেন।কারন এক নিকটাত্মীয় তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে অর্থনীতিতে গ্রাজুয়েট করলে তাঁকে চাকরি দিবেন।কলেজে পড়ার সময়েও তিনি চলচ্চিত্র দেখা এবং নিজস্ব গ্রামোফোনে “Western Classical Music” শোনা চালিয়ে যান।
১৮ বছর বয়সে ১৯৩৯ সালে তিনি গ্রাজুয়েট করেন।এবং পড়াশোনা ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।যদিও কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষন ছিলনা তবুও তিনি বানিজ্যিক চিত্রকর (Commercial Artist) হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।ছবি আঁকায় তাঁর সহজাত প্রতিভা এবং আগ্রহ ছিল।তাঁর মায়ের অবশ্য মনে হয়েছিল যে চাকরি করার পক্ষে সত্যজিৎ এর বয়স অনেক কম।তাই তিনি সত্যজিৎ কে শান্তিনিকেতনে পেইন্টিং এর উপর পড়াশোনা করার উপদেশ দেন।প্রথমে আপত্তি করলেও পড়ে সত্যজিৎ অবশ্য মেনে নেন।
শান্তিনিকেতনে পড়ার সময়ে সত্যজিৎ রায়।
১৯৪৩ এর এপ্রিলে তিনি ব্রিটেন ভিত্তিক বিজ্ঞাপনী সংস্থা D.J.Keymer এ মাসিক ৮০ রুপি বেতনে জুনিয়র ভিজুয়ালাইজার হিসেবে যোগদান করেন।পরবর্তী ১৩ বছর(যত দিনে পথের পাঁচালী সফলতা পায় এবং তিনি পুরোদস্তুর চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন) তিনি এখানেই কর্মরত ছিলেন।
এর পরবর্তী ৩৭ বছর শুধুই চলচ্চিত্র নির্মান করেন।১ বছরে ১ ছবি এই ছিল তাঁর মূলনীতি।প্রচন্ড কাজের চাপে ১৯৮০ এর মধ্যমভাগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর উপন্যাস অবলম্বনে “ঘরে বাইরে”(১৯৮৪) ছবিটি তাঁর আবার চলচ্চিত্রাঙ্গনে ফিরে আসার প্রথম কাজ।শুটিং এর সময় তিনি দুইবার হার্ট এটাক এর শিকার হন এবং তাঁর ছেলে সন্দীপ রায় ছবিটির কাজ শেষ করেন
পরবর্তী চার বছর অসুস্থতার কারনে তিনি চলচ্চিত্র থেকে দূরে ছিলেন।১৯৮৯ তে তিনি “গণশত্রু” এর অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন।এই সিরিজের পরবর্তী ছবিগুলো ছিল “শাখা- প্রশাখা”(১৯৯০) এবং “আগন্তুক”(১৯৯১)।তিন ছবির এই সিরিজটিই তাঁর জীবনের শেষ সিরিজ। ” —



