
ইরানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট
রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সমর্থনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য শহরের ক্যাম্পাসের করিডোর ও রাস্তায় জড়ো হয়েছেন তরুণ-তরুণীরা। এই ধর্মঘট চলার সময় মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) টেলিগ্রাম চ্যানেলকে স্টুডেন্টস ইউনাইটেড জানায়, আমীর কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানের হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বলেছে, সোমবার শিরাজের ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনজনকে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জাহেদানে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অধিকারকর্মীদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, ছয় সপ্তাহ আগে দেশজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩০০ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।
যথাযথভাবে হিজাব না পরায় ১৩ সেপ্টেম্বর কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনিকে (২২) তেহরানে আটক করে ইরানের নৈতিকতা পুলিশ। আটকের কয়েক ঘণ্টা পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন দিন পর আমিনির মৃত্যু ঘোষণা করে পুলিশ। আমিনির মৃত্যুতে দেশজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান আর কখনো এত বড় বিক্ষোভের মুখে পড়েনি।
মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) এইচআরএএনএ এক বার্তায় রাজধানীর বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ধর্মঘটের ছবি প্রকাশ করে। এর মধ্যে রয়েছে শরীফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, একমাত্র নারীদের বিশ্ববিদ্যালয় আল-জাহরা ইউনিভার্সিটি ও আমির কবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি।
ধর্মঘটে শিক্ষার্থীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। সেসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ক্লাস হবে না।
শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচির একটি ভিডিওতে আটককৃত শিক্ষার্থীদের জন্য স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তাদের প্ল্যাকার্ডেও লেখা ছিল, এই অবস্থান ধর্মঘট গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য।
ইয়াজদ ও ইসফাহানের কেন্দ্রীয় শহর ও দক্ষিণের শহর শিরাজের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও একই কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।
উত্তর-পূর্বের শহর সানন্দাজের কুর্দিস্তান ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের নারী শিক্ষার্থীদের একই সময়ে ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ বিক্ষোভের মূল স্লোগান দিতে দিতে তাদের মাথার স্কার্ফ বাতাসে উড়াতে দেখা যায়।
নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন পীড়ন স্বত্তেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে এসে বিক্ষোভ জারি রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।
এইচআরএএনএ সোমবার জানায়, চলমান বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৪৬ শিশুসহ অন্তত ২৮৭ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১৪ হাজার ১৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিক্ষোভ সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। যেটিকে কর্তৃপক্ষ বিদেশি সহায়তায় তৈরি দাঙ্গা বলে মন্তব্য করেছে।
তেহরানের প্রধান প্রসিকিউটর সোমবার জানান, নিরাপত্তাকর্মীদের হত্যা ও অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার অভিযোগে ১ হাজার জনের গণবিচারের প্রস্তুতি চলছে।



