যুক্তরাষ্ট্র

আসছে শরতে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় দফা করোনা সংক্রমণ

শরৎকালে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফুচি। সিএনএন অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি ইকোনমিক ক্লাব অব ওয়াশিংটনের একটি ওয়েব সেমিনারে ডা. ফুচি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে, এ ভাইরাসটি আবারও ব্যাপকহারে মানুষকে সংক্রমিত করতে শুরু করবে। কারণ ভাইরাসটি অতি মাত্রায় সংক্রামক এবং বিশ্বব্যাপী তা ছড়িয়ে পড়েছে।’

এমন এক সময় ডা. ফুচি এমন মন্তব্য করলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য কর্তৃপক্ষ অর্থনীতি স্বাভাবিক করতে ধীরে ধীরে লকডাউন তুলে নিতে শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসেসের পরিচালক ফুচি আরও বলেন, ‘আমাদের যদি পূর্ব প্রস্তুতি না থাকে তাহলে নিশ্চিতভাবেই আগামী শরৎ ও শীতকাল খারাপ কাটবে।’

উত্তর আমেরিকার আবহাওয়া অনুযায়ী, গ্রীষ্ম থেকে শীতকালে প্রবেশের মধ্যবর্তী পর্যায়কে বলা হয় শরৎকাল। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শরৎকালের ব্যাপ্তি ধরা হয়। এরপর শুরু হয় শীতকাল।

শুধু ডা. ফুচি নন, যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক গবেষক দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, মানুষ সাধারণত চারটি সাধারণ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। ১৯৬০- এর দশকের মাঝামাঝি সময় এ করোনাভাইাসগুলো আবিষ্কার করা হয়। যেগুলো সাধারণত শীতকালে মানুষকে আক্রান্ত করে।

মায়ো ক্লিনিকের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গ্রেগ পোল্যান্ড বলেন, নভেল করোনাভাইরাসও সম্ভবত শীত কালে আবার ফিরে আসতে পারে। সব সময় নয়, তবে প্রথম দফার চেয়ে দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ ভয়াবহ হতে পারে।

সিডিসি মনে করে, সাধারণ ফ্লুর সিজন শুরু হওয়ার পরপরই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের শুরু হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় চার কোটি মানুষ গত মৌসুমি সাধারণ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন ও মারা গেছেন ২৪ হাজারের বেশি মানুষ।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় দফায় সোয়াইন ফ্লুর সংক্রমণ ঘটেছিল। সিডিসি বলছে, সে বছর সোয়াইন ফ্লুর দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ ঘটেছিল শরৎ ও শীতকালে।

১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লুরও দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ দেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে দ্বিতীয় দফার সে সংক্রমণ শুরু হয়েছিল শরতের শুরুতে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে। স্প্যানিশ ফ্লুতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে মারা গিয়েছিল ছয় লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। বিশ্বব্যাপী মৃত্যু হয়েছিল পাঁচ কোটির বেশি মানুষের।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন থেকেই পদক্ষেপ নিলে দ্বিতীয় দফার সংক্রমণে ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণ মানুষকে যথাসম্ভব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাইরে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ১০ জনের বেশি এক জায়গায় একত্রিত না হলেই ভালো।

তবে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো, বিপুল সংখ্যক মানুষকে নিয়মিত করোনাভাইরাসের পরীক্ষার আওতায় আনা।

বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের টিকা মানুষের নাগালে পৌঁছাতে এখনও ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগবে। সে সময় পর্যন্ত এসব সাধারণ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েই চলতে হবে।◉

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension